বিকাশ ও সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা, দুই চক্রের ৭ জন গ্রেফতার

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্কিাশের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। এই চক্রের সদস্যরা ‘প্রবাসী কার্ড’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশের ‘বিটুবি নম্বর’ ক্লোন করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতো। অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি, বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

একই দিনের অভিযানে একই এলাকা থেকে আরও একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রটির সদস্যরা প্রথমে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক অনুদান পাওয়া কর্মচারীদের নামের তালিকা ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে। পরে সরকারি কর্মকর্তা সেজে তাদের ফোন দিয়ে ‘অনুদান পেয়েছেন’ বলে জানায় এবং ইতোমধ্যে অনুদানের টাকা তাদের এমএফএস অ্যাকাউন্ট অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান। এছাড়া তাদের এটিএম কার্ড থাকলে, সেই কার্ডের নম্বর পাঠাতে বলে। কৌশলে ওটিপি নম্বর জেনে নিয়ে চক্রের সদস্যরা টাকা তুলে নেয়।

শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

এসএসপি নজরুল ইসলাম জানান, বিকাশের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনায় গ্রেফতাররা হলো- মোস্তাক হাওলাদার (৩০), আব্দুল হালিম ফরাজী (২২), মৃত্যুঞ্জয় মজুমদার (২৯) ও সুজন শেখ (২২)। এই চক্রটি ‘প্রবাসী কার্ড’ নামে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ডিএমপির লালবাগ থানায় ২০২১ সালের ৭ আগস্ট এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের হয়।

আর সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে- হৃদয় মাতুব্বর হেলাল মাতুব্বর (২৪), তুহিন সরদার (২৫) ও সজিব আকাশ (২১)। তারা ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। ডিএমপি রামপুরা থানায় গত বছরের ২৭ জুলাই একটি মামলা হয়। 

এসএসপি নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এই দুই চক্রের গ্রেফতার সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে বৃহস্পতিবার আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে আদালত আসামিদের একদিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে। এছাড়া আসামিদের মধ্যে দুই জন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।