১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। ‘মাতৃভাষা সবার অধিকার’– এই চেতনায় উজ্জীবিত ছিল বাঙালি জাতি। মাতৃভাষার দাবি অর্জনের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছিল গৌরবান্বিত ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে আন্তর্জাতিক করার প্রয়াস নিয়েছে নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাস। একুশে ফেব্রুয়ারিকে মাথায় রেখে দূতাবাস নেদারল্যান্ডসে একটি পোস্টার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেখানে অংশ নেয় বিভিন্ন ভাষাভাষীর শিশু ও তরুণরা। এর মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসে অবস্থানরত বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা, বাংলাদেশের মূল্যবোধ, গৌরব ও ইতিহাস তুলে ধরছে দূতাবাস।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ‘প্রথাগতভাবে একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান দূতাবাসকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। সেখানে কিছু প্রবাসী বাঙালি এবং সামান্য কয়েকজন বিদেশি থাকেন। আমি চেষ্টা করেছি এই দিবসকে নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যেতে। একইসঙ্গে আমার আগ্রহ ছিল একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস তরুণদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া।’
প্রতিযোগিতা সফল হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৩ ডিসেম্বর আমরা এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেই। ওই সময় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১১টি প্রাদেশিক গর্ভনর এবং প্রায় ২৫ জন মেয়রকে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখেছি, যাতে তরুণ ও শিশুরা ওই পোস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের বেশ কয়েকটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করেছি।’
অনেক ইউরোপিয়ান শিশু তাদের পোস্টারে বাংলা শব্দ বা অক্ষর ব্যবহার করেছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘তাদের আমরা চিনি না কিন্তু ভাষার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে। আমরা যে পোস্টার পেয়েছি সেগুলোর মধ্যে বাছাই করে পাঁচ মিনিটের একটি এভি (অডিও-ভিডিও) বানিয়েছি। এটি দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেখা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাকে এ বিষয়ে সহায়তা দিয়েছে ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে প্রথম পাঁচ জনকে বাছাই করার ক্ষেত্রে তারা দূতাবাসকে সহায়তা দিয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইয়োগার প্রসারের মাধ্যমে ভারত নিজেদের মূল্যবোধ ও দর্শন আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের যে মূল্যবোধ, সম্পদ ও ঐতিহ্য রয়েছে সেটির মধ্যে অন্যতম হলো একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশের চেতনার প্রসারের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশ ও দেশের ঐতিহ্যের গল্প সবাইকে বলতে চাই।’
ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন ২১ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা দেয়।