কবে নিষ্পত্তি হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাড়ে ৫ হাজার মামলা

সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি মামলা ঝুলে আছে উচ্চ আদালতে। প্রায় দুই যুগ আগের মামলাও আছে এই তালিকায়। কী কারণে এসব মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না সেটাও জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাঝে মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে চিঠি দেওয়া হয়। তারাই এ বিষয়গুলো দেখভাল করেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের একটি রিট মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। ২০০৩ সালের চারটি, ২০০৪ সালের দুটি রিট মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। ২০০৫ সালের ৩৯টি, ২০০৬ সালের ৪১টি, ২০০৭ সালের ৪৮৬টি, ২০০৮ সালের ৭৬১টি, ২০০৯ সালের ১১০টি, ২০১০ সালের ৩৭৫টি, ২০১১ সালের ২৫২টি, ২০১২ সালের ৪২৪টি, ২০১৩ সালের ৪৮৪টি, ২০১৪ সালের ৩৭০টি, ২০১৫ সালের ৩০৮টি, ২০১৬ সালের ৩৪৫টি, ২০১৭ সালের ৩৪০টি, ২০১৮ সালের ৩৮৭টি, ২০১৯ সালের ৩০৬টি, ২০২০ সালের ১৬০টি, ২০২১ সালের ২০৮টি এবং ২০২২ সালের ২৫৭টি রিট মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিগত দুই যুগ বা ২৪ বছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদফতরের ৫ হাজার ৬৬০টি রিট মামলা হয় উচ্চ আদালতে। এরমধ্যে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের ২৩৬টি রিট মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ৫ হাজার ৪২৪টি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হয়। এসব অভিযানের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করেন।

ওয়ান ইলেভেনের সরকার হিসেবে পরিচিত ফখরুদ্দীন আহমেদের সরকারের দুই বছরেই সবচেয়ে বেশি রিট মামলা হয় উচ্চ আদালতে। যেমন, ২০০৭ সালে ৪৮৬টি ও ২০০৮ সালের ৭৬১টি রিট মামলা হয়। অবশ্য, ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যেও উচ্চ আদালতে রিট মামলা বেশি হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বৈঠকেও তাদের পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন অধিদফতরের রিট মামলা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এগুলো দ্রুত শেষ করার জন্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু মামলার নিষ্পত্তিতে কোনও অগ্রগতি হয় না।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল দুয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তারা প্রতিটি বৈঠকের পরই চিঠি দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে অবহিত করেন। তাছাড়া আদালতের বিষয়গুলো আদালতের এখতিয়ারে।

পুলিশ সদর দফতরের জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার আইন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা টাইম টু টাইম এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে অবহিত করি। রিট মামলাগুলো সাধারণত পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের মনে করিয়ে দেওয়া। উচ্চ আদালতে অনেক বেশি মামলা। এ কারণেই হয়তো এগুলো নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়। তাছাড়া সরকারি মামলা সরকারিভাবেই কার্যক্রম চালানো হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ও তার অফিসের অন্যান্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা এগুলো পরিচালনা করেন। আমরা শুধু মনে করিয়ে দেই তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য।

পুলিশের কী পরিমাণ রিট মামলা আছে জানতে চাইলে আইন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বিভাগীয় মামলার ক্ষেত্রে রিট কমই হয়। কারণ, বিভাগীয় মামলাগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আছে। সেখানেই মূলত বিভাগীয় মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়ে যায়। সেখানে পুলিশের ২ হাজারের মতো মামলা আছে। তবে পুরোনো মামলা নেই বললেই চলে। বিভাগীয় মামলা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালেই বেশি। তিনি আরও বলেন, অনেক রিট মামলাতেই পুলিশের কোনও কার্যক্রম থাকে না। দেখা গেছে কেউ উচ্চ আদালতে গিয়ে পুলিশকে একটা পক্ষ করেছে। যেমন স্বামী-স্ত্রী বাচ্চা নিয়েও রিট মামলা হয়। সেখানে পুলিশকে একটা পক্ষ করেছে। সেক্ষেত্রে পুলিশের তেমন করণীয় থাকে না জবাব দেওয়া ছাড়া।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মূলত এসব মামলা তো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হয়। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকে। এরপরও বাদীপক্ষ শুনানিতে এগিয়ে না আসা ও রাষ্ট্রপক্ষের ব্যস্ততাসহ বিভিন্ন কারণে মামলাগুলোর বিচার শেষ হতে দেরি হয়ে থাকে।