ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিন প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী কঙ্কন ভট্টচার্য্য, মন্দিরা ভট্টাচার্য্য ও রঞ্জিনী ভট্টাচার্য্যের সুরের মূর্ছনায় মাতলেন শ্রোতারা। লোকসংগীত, বিদেশি গানের অনুবাদ আর নিজেদের লেখা ও সুর করা মৌলিক গানের সমন্বয়ে অনবদ্য একটি সংগীত সন্ধ্যা উপহার দিলেন এই শিল্পী পরিবার। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর একাদশ সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতার।
‘প্রলয় বাজাও গানে, সাহস জাগাও প্রাণে’ স্লোগান নিয়ে এবারের উৎসবের তৃতীয় ও শেষ দিন ছিল রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় ছায়ানট মিলনায়তনে শুরু হয় উৎসবের আমন্ত্রিত শিল্পী কঙ্কন ভট্টচার্য্য, মন্দিরা ভট্টাচার্য্য ও রঞ্জিনী ভট্টাচার্য্যের ত্রয়ী সংগীত সন্ধ্যা। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজনের শুরুতেই শিল্পীদের মঞ্চে আহ্বান করা হয়। তারপর ফুল দিয়ে বরণ করা, উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া, উৎসব স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া, উপহার ও বই তুলে দেওয়া এবং শিল্পীদের উদ্দেশে উদীচীর প্রতিজ্ঞাপত্র পাঠ করা হয়।
এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় শিল্পী ত্রয়ীর সংগীত পরিবেশনা। সাঁওতাল বিদ্রোহ থেকে শুরু করে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসংগীত, পল রবসন বা পিট সিগার-এর বিপ্লবী গানের অনুবাদ, চিলির গণজাগরণমূলক গানের অনুবাদ কিংবা বাংলার নিবারণ পণ্ডিত-এর গান- কী না ছিল সেখানে। গানে গানেই যেন পুরো বিশ্ব ভ্রমণ করেন কঙ্কন, মন্দিরা এবং রঞ্জিনী। সঙ্গে ভ্রমণ করান মিলনায়তনে উপস্থিত শ্রোতাদেরকেও।
এছাড়া, নিজেদের লেখা ও সুর করা প্রখ্যাত সব গণসংগীত পরিবেশন করেন তিন শিল্পী। ছিল ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ এবং সলিল চৌধুরী ও হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সৃষ্ট কিংবদন্তী সব গানও। তাদের একেকটি অনবদ্য পরিবেশনা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন শ্রোতারা। পান অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসাম্যের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার নতুন অনুপ্রেরণা।
এর আগে গত ১০ মার্চ (শুক্রবার) বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদীচীর একাদশ সত্যেন সেন গণসংগীত উৎসব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের ফুল, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয় উৎসবে। প্রথম দুই দিনই সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল দেশবরেণ্য গণসংগীত শিল্পী ও দলের পরিবেশনা।