১০ এপ্রিলকে রিপাবলিক ডে’র স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ওই দিনকে ‘রিপাবলিক ডে’ (জনগণতন্ত্র দিবস) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম।

সোমবার (১০ এপ্রিল) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স’ আয়োজিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র উপলক্ষে এক  সেমিনারে তিনি একথা বলেন।

ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিশ্বাস রাখি, ১০ এপ্রিল যেদিন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করে, সে দিনটি রিপাবলিক ডে (জনগণতন্ত্র দিবস) হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রই হচ্ছে— বাংলাদেশের জন্ম সনদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য হয়েছিল— বাংলাদেশের জন্ম সনদ, প্রথম সাংবিধানিক দলিল, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, এককভাবে ১০ এপ্রিলের প্রথম প্রহরে কোলকাতা বসে রচনা করার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সত্রিয় নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা— সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আালী, এএইচ এম কামরুজ্জামানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী, মিত্র বাহিনীর সব শহীদ, বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত নারী-পুরুষ ও  গণমানুষের কথা।’

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন জানান যে, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বের ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১০ এপ্রিল গণরাষ্ট্র দিবস হিসেবে পালন করা হোক।’

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত ভিনা সিক্রি বলেন, ‘১৯৭১ এর ২৫ মার্চের পরে ভারতে বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময়ে বাংলাদেশকে ‘ইস্ট পাকিস্তান’ নয়, বরং ‘ইস্ট বাংলা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।’

তিনি জানান, ১৯৭১ এর ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ভারতের সংসদে যে বিতর্ক হয়, সেখানে বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে এবং বাংলাদেশের সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা হয়।’

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য ব্রিগেডিয়ার আরপি সিং বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন সামরিক সহযোগিতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিয়েছিল।

তিনি জানান, আমরা যখন বাংলোদেশে প্রবেশ করি, তখন পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করার জন্য আগ্রহী ছিল। কারণ, তারা জানতো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাদের হয়তো মেরে ফেলা হবে। ভারতীয় সৈন্যাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বন্দি করা হবে।