দারিদ্র্যের হার কমেছে, বেড়েছে বৈষম্য

সরকারি হিসাবে দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘খানা আয় ও ব্যয় জরিপ-২০২২’ অনুযায়ী দেশের মোট জনংখ্যার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ দরিদ্র। ২০২২ সালের জরিপে গ্রামে দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শহরে ১৪ দশিমক ৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে গ্রামে যা ছিল ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল শহরে। আর ২০১৬ সালের জরিপে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

বুধবার (১২ এপ্রিল) পরিসংখ্যান ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে খানা আয় ও ব্যয় জরিপ প্রকাশ করা হয়। জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২২ সালে দেশে অতি দরিদ্রের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৬ সালের জরিপে যা ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।

মানুষের মাথাপিছু মাসিক আয় ও ব্যয় এবং জনপ্রতি ক্যালরি গ্রহণের হারও আগের চেয়ে বেড়েছে বলে বিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে দারিদ্র কমলেও বৈষম্য বেড়েছে। বাংলাদেশের মাসিক গড় পারিবারিক আয় ২০২২ সালে বেড়ে ৩২ হাজার ৪২২ টাকায় পৌঁছায়। ছয় বছর আগে ২০১৬ সালের সর্বশেষ জরিপের তুলনায় এটি প্রায় ১০২ শতাংশ বাড়তি। ২০১৬ সালে মাসিক গড় আয় ছিল ১৫ হাজার ৯৮৮ টাকা। আর ২০১০ সালে এ আয় ছিল আরও কম ১১ হাজার ৪৭৯ টাকা। আয় বৈষম্য পরিমাপকারী গিনি সহগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৪৯৯ পয়েন্ট। ২০১৬ সালে গিনি সহগ ছিল দশমিক ৪৮২ পয়েন্ট। সাধারণত দশমিক ৫০০ হলেই একটি দেশকে উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে দিক থেকে অতি সামান্য দূরে আছে বাংলাদেশ।

বিবিএসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম দুজনেই এই বৈষম্য বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা বলেছেন, উন্নয়নের এক পর্যায়ে বৈষম্য বাড়ে, আবার পরে তা কমে আসে।

প্রসঙ্গত, মৌলিক চাহিদা মেটানোর ব্যয়ের ভিত্তিতে বিবিএস দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করে।