নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং শ্রম আইনের অসঙ্গতি দূর করাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে আইইউএফ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ওয়ার্কার্স কাউন্সিল-বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন।
শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আন্তর্জাতিক শ্রমিক স্মৃতি দিবস উপলক্ষে আইইউএফ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ওয়ার্কার্স কাউন্সিল-বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
আলোচনা সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘বাংলাদেশে শ্রম আইনে আঙুল কাটা পড়লে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার কথা রয়েছে। আর একজন মারা গেলে মাত্র ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পঙ্গুত্ববরণ করলে দেওয়া হয় আড়াই লাখ টাকা। একজন শ্রমিকের জীবন এতই সস্তা? যারা এই শ্রম আইন তৈরি করেন তাদের যদি বলি, আমরা শ্রমিকরা চাঁদা উঠিয়ে যদি এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেই তাহলে কি আপনারা হাতের আঙুল কেটে দিতে পারবেন? এ ধরনের আইন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের বিষয়ে শ্রম আইনে থাকবে না কেন?’
বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণ আইন যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত পরিবেশ ভয়াবহ। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ জরুরি। সম্প্রতি শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকারও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আইএলও শোভন কাজের কথা বলছে। শোভন কাজ মানে শোভন মজুরি, শোভন কর্মঘণ্টা, শোভন পরিবেশ।’
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ছারোয়ার বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ কর্মস্থলে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক পরিবেশ বজায় থাকায় শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা এবং আহতের সংখ্যা বাড়ছে। তাজরিন ফ্যাশন, রানা প্লাজা, ট্যাম্পাকো, হাসেম ফুডসে শিশুসহ শ্রমিকদের মর্মান্তিক প্রাণহানি অনিরাপদ কর্মস্থলের ধারাবাহিক পরিণতির কয়েকটি উদাহরণ মাত্রা।’
বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মজিদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আলোচনা করে, টক শোতে সুন্দর সুন্দর কথা বলে কিছু হবে না। মাঠে গিয়ে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের পক্ষে আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। আমাদের এক হতে হবে। এই দেশে শ্রমিক-কৃষকের সংখ্যা বেশি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সামনে আমাদের দাবিগুলো আদায় করতে পারবো।’
তাদের ছয় দফা দাবি হলো– কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ১০ জুন ২০২১ আন্তর্জাতিক শ্রম কনফারেন্সে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুত আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক আইএলও’র মৌলিক কনভেনশন ১৫৫ প্রতিপালন আইন প্রণয়ন করা, নিয়োগকর্তারা নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে কিনা এজন্য ত্রিপক্ষীয় তদারকি কমিটি গঠন করা, প্রশিক্ষিত পরিদর্শক দ্বারা নিয়মিত কারখানার ঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ দিতে ব্যর্থ ও আইন ভঙ্গকারী নিয়োগকর্তাদের জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা, নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে আইন তৈরি করা।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন– শ্রমিক নেতা শামীম ইমাম, আব্দুল মান্নান, মো. কামরুল ইসলাম, মো. আবুল কালাম, মো. রেজাউল হক, মো. সোহাগ মিয়া প্রমুখ।
এ সময় আইইউএফ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ওয়ার্কার্স কাউন্সিল বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলোর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য এবং সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।