মেট্রোরেলে ঢিল: বিব্রত স্থানীয়রা, বাড়তি সতর্কতার প্রতিশ্রুতি

দেশের অন্যতম জাতীয় সম্পদ মেট্রোরেলে ঢিল ছুড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় মেট্রোরেল চলাচলের দুপাশের ভবনের বাসিন্দারাও বিব্রত। তারা বলছেন, এ ঘটনার পর থেকে ভবনের মালিকরা নিজেদের তাগিদেই বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য ভাড়াটিয়াদের সতর্ক করেছেন তারা। জানিয়ে দিয়েছেন যে, এর দায়ভার কোনোভাবেই ভবন মালিকরা নেবেন না। অন্যদিকে মেট্রোরেল লাইনের আশপাশের বাসিন্দাদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।পার্শ্ববর্তী বহুতল ভবনের ছাদ থেকে তোলা মেট্রোরেল লাইন

ঘটনার পর থেকে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা পুলিশ, কাফরুল থানা, পল্লবী থানা, রূপনগর থানা, শেরেবাংলা নগর থানা তাদের কার্যক্রম আরও বেশি জোরদার করেছে। ভবন মালিকদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঢিল ছোড়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য ভবন মালিক, ভাড়াটিয়া এবং নগরবাসী সবাইকে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মেট্রোরেল আইনে বলা আছে, মেট্রোরেল চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে কিংবা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িত থাকলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানায় পড়তে হবে। ঢিল ছোড়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জানালার কাচ মেরামত করতে খরচ হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মেট্রোরেল আইন ২০১৫ এর অধীনে কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করে।মেট্রোরেল-02

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকটি ভবন শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে একটি ভবন থেকে বাসিন্দারা পালিয়েছেন। তারা কেন পালালেন, কোথায় গিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খতিয়ে দেখতে মেট্রোরেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পালিয়ে যেখানেই যাক না কেন, আইনের আওতায় আনা হবে তাদের।

সোমবার (৮ মে) রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত দুই পাশের কয়েকটি ভবন মালিক এবং ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজেরাও এমন ঘটনায় বিব্রত। টাকা খরচ করে বাড়ি করেছেন, আর কেউ এসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে চলে যাবে তা মানতে নারাজ।

কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশন লাগোয়া ভবনের মালিক ইদ্রিস আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের ৫ তলা ভবনের তিন তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ভাড়া দেওয়া। ৪ তলায় আমরা নিজেরা থাকি। আমার ভবনের কয়েক ফুট পাশ দিয়েই মেট্রোর লাইন গিয়েছে। আমরা কেন কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবো?’মেট্রোরেল

শেওড়াপাড়া মেট্রো স্টেশনের পাশের ৯ তলা বিশিষ্ট এরাবিয়ান টাওয়ারের ম্যানেজার আশরাফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা মেট্রোরেল উদ্দেশ্য করে ঢিল ছুড়েছে, তারা অবশ্যই কাজটি অনেক খারাপ করেছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলে অন্যরাও ভয় পাবে। আমাদের ভবনের মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সচেতন থাকতে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।’

কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার মেট্রো স্টেশনের মাঝামাঝি ১০৩২ নম্বর ভবনের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কোনও ভাড়াটিয়া ছাদে উঠতে পারেন না। এছাড়া আমাদের বিল্ডিং দিয়ে অন্য বিল্ডিংয়েও যাওয়া যায় না। দুয়েকদিন আগে পুলিশ এসেছে, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যতটুকু তথ্য দেওয়ার, দিয়েছি।’

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মেট্রোরেলের ঢিল ছোড়ার ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনও অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভবনের মালিকদের সচেতন ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’