মাতাল অবস্থায় সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ১৭ এপ্রিল গ্রেফতার হন মিউজিক্যাল ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘কোক স্টুডিও বাংলা’র ‘বুলবুলি’ খ্যাত শিল্পী ঋতুরাজ বৈদ্য। ওই দিন গুলশান-২ এর রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৪ দিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।
গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) হোসনে মোবারক বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন গত ১৭ এপ্রিল। পরদিন ১৮ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এছকান্দার আলী সরদার। আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানাধীন গুলশান-২ এ রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমানের সরকারি গাড়িতে তার ড্রাইভার অতুলচন্দ্র মন্ডল বসা ছিলেন। এমন সময় ঋতুরাজ বৈদ্য মদ্যপ অবস্থায় পায়ে হেঁটে গাড়ির সামনে এসে গাড়ির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, বাম সাইডের লুকিং গ্লাস ও বাম সাইডের হেডলাইট ভেঙে ফেলেন। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দেখা যায় তিনি সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থায় আছেন। তখন তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগে ভর্তি করালে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে ওয়াশ করেন।
একই ঘটনায় গাড়ির ড্রাইভার ১৮ এপ্রিল বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে গুলশান-২ এ রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমানের সরকারি গাড়িতে বসা ছিলেন। এমন সময় ঋতুরাজ বৈদ্য মদ্যপ অবস্থায় হেঁটে গাড়ির সামনে এসে গাড়ির গতিরোধ করেন এবং গাড়ি সরাতে বলেন। গাড়ি সরাতে দেরি হওয়ায় ঋতুরাজ গাড়ির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, বাম সাইডের লুকিং গ্লাস ও বাম সাইডের হেডলাইট ভেঙে ফেলেন এবং তাকে (ড্রাইভার) মারধর করে তার পকেটে থাকা তিন হাজার ২৫০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় ঋতুরাজকে ২৬ এপ্রিল শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পুলিশ বাদী হওয়া মামলায় তিনি ২৫ এপ্রিল এক হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পান। অপর মামলায় ৩০ এপ্রিল জামিন পান। উভয় মামলায় বর্তমানে জামিনে আছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার আইনজীবী আল মামুন রাসেল বলেন, নিতান্ত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তার বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়। আমরা আদালতে সব বিষয় উপস্থাপন করলে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাকে জামিন দিয়েছেন।