ট্রেনের ক্যাটারিং সার্ভিস চালায় সরকারবিরোধীরা, অভিযোগ সংসদীয় কমিটির

বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের অন-বোর্ড (এটেনডেন্ট) ও ক্যাটারিং সার্ভিস সরকারবিরোধী লোকজন পরিচালনা করছে, ওই সব ট্রেনের সেবার মানও ভালো নয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।  সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ অভিযোগ তোলেন খোদ কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। পরে রেলওয়েতে কোন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়, পরবর্তী বৈঠকে তার প্রতিবেদন দিতে অনুশাসন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির ২৫তম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনার বিষয়টি কার্যবিবরণী আকারে মঙ্গলবার  (৯ মে) অনুষ্ঠিত বৈঠকে তোলা হলে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।

আগের বৈঠকে ফজলে করিম বলেন, ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পার্বতী এক্সপ্রেসসহ বেশ কিছু অন্তঃনগর ট্রেনে অন-বোর্ড অথবা ক্যাটারিং সার্ভিস সরকারবিরোধী লোকজন চালাচ্ছে। তার দাবি, ওই সব ট্রেনের সেবার মানও দীর্ঘদিন যাবত মানসম্মত নয়। তিনি পরিচালনাকারীদের (লিজ গ্রহণকারীদের) চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি না করে নতুনভাবে তালিকাভুক্ত করে টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালনার পরামর্শ দেন।

ওই বৈঠকের অগ্রগতি প্রতিবেদনে আজকের বৈঠকে  মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়— বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির কার্যক্রম চলমান আছে। তালিকাভুক্তির পর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্যাটারিং সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত পাঁচটি ট্রেনের মধ্যে দুটি ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস রেলওয়ের অ্যাটেনডেন্ট দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। অন্য তিনটি ট্রেনের অনবোর্ড সার্ভিস বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনবোর্ড সার্ভিস পরিচালনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষের পরে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানায়।

এদিকে মুজিববর্ষ ‍উপলক্ষে দেড় বছর আগে দেশের সব রেলস্টেশনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আগের বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটি।

অবশ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩৫টি রেলস্টেশনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের টেন্ডার হয়েছে। ম্যুরালের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনী সংযুক্ত করা হবে। তবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও সংক্ষিপ্ত জীবনী স্থাপনের পূর্বে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। তিনি বিগত দেড় বছর পূর্বে প্রতিটি রেলস্টেশনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হওয়া সত্ত্বেও এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন। চট্টগ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০১টি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরে ওই বৈঠকে সব রেল স্টেশনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের জন্য পুনঃসুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার কমিটির কাছে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়— বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন ২৯টি, পশ্চিমাঞ্চলের ২৮টি মোট ৫৭টি স্টেশনের দর্শনীয় স্থানে স্থাপনের জন্য ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়েছে। কাজটি অতি দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে থেকে সব রেলওয়ে স্টেশনে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল দ্রুত স্থাপনের আবারও সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের সিআরবির সামনে সাত রাস্তায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। একইসঙ্গে কম দূরত্বের যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের অধীনে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো যায় কিনা, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে নির্দেশনা প্রদান করে স্থায়ী কমিটি।

কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন— কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, শফিকুল আজম খাঁন ও নাদিরা ইয়াসমিন জলি।