ড. ওয়াজেদ মিয়া জীবদ্দশায় সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, এম এ ওয়াজেদ মিয়া তার জীবদ্দশায় সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন। তিনি চাইলে তার পরমাণু কমিশনের চাকরি এক্সটেনশন করতে পারতেন। এটা যৌক্তিকও ছিল, কারণ তার মতো উপযুক্ত কেউ তখন ছিল না। তবু তিনি তার চাকরি এক্সটেনশন করেননি। যাতে কেউ বলতে না পারে, প্রধানমন্ত্রীর স্বামী বলে তিনি পদে বহাল রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান ও ‘ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১১তম আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন।

মন্ত্রী বলেন, ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী একজন মানুষ। তিনি পাকিস্তান আমলে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় প্রথম, ইন্টারমিডিয়েটে দ্বিতীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বিভাগে প্রথম হন। তিনি অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির কাস্টে ঝোলাতে চেয়েছিল যখন, সেই দুঃসময়ে ওয়াজেদ মিয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বিয়ে করেন। আজ এটা সহজ মনে হলেও তখন সেটা কঠিন ছিল। কারণ তখন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ লোকদের প্রাণনাশের ঝুঁকি ছিল। কিন্তু সে সময় তিনি এমন সাহসিকতা দেখান।

তিনি আরও বলেন, ওয়াজেদ মিয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার পরও তাদের সন্তানদের সুযোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। আজ বঙ্গবন্ধুর নাতি-নাতনি, মেয়ে শেখ হাসিনা দেশের সেবায় নিয়োজিত। তারাও (সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল) নানা, পিতা-মাতা ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ সময় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তানদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তানরা কী হয়েছে? তারা হয়েছে টাকা পাচারকারী। তারা টাকা লুটপাট করেছে। আর আজ বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার আট বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ১১তম আন্তর্জাতিক ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। তারা হলেন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন (পাবলিক সার্ভিস ক্যাটাগরিতে), অধ্যাপক ড. বিদ্যুৎ বরণ সাহা (বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে, জাপান), এ এইচ এম শফিউজ্জামান (সেরা সরকারি চাকরিজীবী ক্যাটাগরিতে), ড. এম আব্দুল মোতালেব (বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে, যুক্তরাষ্ট্র), অধ্যাপক ড. গৌরীশংকর শাহ (বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে, ভারত), অধ্যাপক ড. এম রফিকুল ইসলাম (বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে, কানাডা), অধ্যাপক ড. মো শফিউর রহমান (বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে, বাংলাদেশ), মিতা মুখার্জী (সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে, ভারত)।

ফাউন্ডেশনের শুরুর কথা তুলে সভাপতি এ কে এম ফরহাদুল কবির বলেন, ২০১০ সালে মাত্র সাতজন সদস্য নিয়ে এই প্রেসক্লাবে এই ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু। তখন থেকেই আমরা কাজ করে আসছি। ২০১৯ সালে এসে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিবন্ধন দিয়েছেন।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম ফরহাদুল কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ নারী ও লেখক কমিশনের চেয়ারপারসন লিনা গাঙ্গুলী, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক প্রমুখ।