মাদকাসক্ত বা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন অভিনয় ও সংগীতশিল্পীদের বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এছাড়া বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানরাও নজরদারিতে রয়েছেন। যারা অভিনয় কিংবা সংগীতশিল্পী, তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিনয় এবং সংগীতশিল্পীরা নিজেদের পেশার অমর্যাদা করে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বেন না, এমনটাই আশা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে বেশ কয়েক জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম বলছেন না সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘সারেগামাপা’-খ্যাত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং তার পরবর্তী বক্তব্য সবার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংগীতশিল্পী নোবেলের মাদক সংশ্লিষ্টতা ও জীবনযাপনের বিষয়ে অনেকেই অনেক ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তার পরিবার থেকেও নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে নোবেলের নিয়মিত মাদক সেবনের বিষয় নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংগীতশিল্পী নোবেলের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত যেসব তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্প্রতি একটি স্টেজ পারফরমেন্সে গিয়ে কেবল ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ নয়, অনেক আগে থেকেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রয়েছেন তিনি (নোবেল)। নৈতিক স্খলন কিংবা মাদক সেবনে তেমন কিছুই বলার নেই কর্মকর্তাদের। তার অনেক ভক্ত রয়েছে তাকে অনেকে অনুসরণ করে। এ ধরনের একজন সংগীতশিল্পীর মাদক সংশ্লিষ্টতা সমাজে নেগেটিভ বার্তা দেয়, যা কখনোই জন্য কাম্য নয়।’
এসব বিষয় জানতে যোগাযোগ করা হলে নোবেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এসএমএস দিয়েও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে নায়িকা পরীমণির মামলা চলমান রয়েছে উল্লেখ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, রাজনৈতিক দলের নেতাদের পরিবারের সদস্য, সংগীতশিল্পী ও অভিনয়শিল্পী পরিবারের সন্তান-সন্ততি, খেলোয়াড়দের সন্তান-সন্ততি, গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিবারের সদস্য, সন্তান-সন্ততির বিষয়ে তথ্য প্রমাণ রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে সব বিষয় খতিয়ে দেখে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে। সব বিষয়ে সতর্ক থেকেই কাজ করছেন কর্মকর্তারা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন্স ও গোয়েন্দা) তানভীর মমতাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কারও নাম বলছি না। তবে যাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, তারা আমাদের নজরদারিতে আছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে কাজ চলছে। কাউকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’