জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতার করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে আগামী ৫ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ফরহাদ ব্যাপারী, আরশাদ আকাশ, রাসেল চাকলাদার ও টুটুল বিশ্বাস।
সোমবার (১৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিনের এ দিন ধার্য করেন।
এদিন এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। তবে ওয়ারী থানার ওসি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ১৫ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক মশিউর রহমান বাদী পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ওয়ারী থানার ওসিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট আসামি ফরহাদ ব্যাপারী ভুক্তভোগী মশিউর রহমানের কাছে থেকে ব্যবসার কথা বলে চার লাখ টাকা ধার নেন এবং ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেবে বলে জানান। কিছু দিন পর আসামির কাছে টাকা চাইলে তিনি জানান, ব্যবসায় লস হয়েছে এবং শিগগিরই টাকা ফেরত দেবেন। এরপর গত ৫ অক্টোবর পাওনা টাকা চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে আসামি ইব্রাহিম ফরাজি তাদের সমস্যার সমাধান করে দেবে বলে জানান এবং তাকে দেখা করতে বলেন। গত ১৮ নভেম্বর ফরাজির কথা মতো তার ঠিকানায় গেলে আসামিরা তাকে রুমের ভেতর নিয়ে গিয়ে চরথাপ্পড় মারতে থাকেন। এর মধ্যে আসামি আরশাদ আকাশ পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে পিস্তল ঠেকিয়ে একটি আইফোন এবং ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর বাদীর হাতে পিস্তল দিয়ে ছবি তোলেন। ওই ছবি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দেবে বলে হুমকি দেন। পরবর্তী সময়ে বাদীর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন আসামিরা। এসব বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরপর ২৬ নভেম্বর মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল আনতে গেলে পাঁচ লাখ সাড়ে ১২ হাজার টাকা রেখে তা ফেরত দেন।