বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীর মাধ্যমে ই-সিগারেট ও ভেপিং-পণ্য নিষিদ্ধের দাবি এখন সর্বত্র। ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেও জানানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে খসড়া সংশোধনীটি চূড়ান্ত করার তাগিদও রয়েছে। সম্প্রতি একটি স্টেক হোল্ডার বৈঠকে এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রগতির জন্য জ্ঞান-প্রজ্ঞার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীর মাধ্যমে ই-সিগারেট ও ভেপিং-পণ্য নিষিদ্ধের যে দাবি এখন সর্বত্র, এর বিরোধিতা করছে তামাক কোম্পানিগুলো। তারা খসড়ার বিরোধিতা করে প্রেস কনফারেন্স, ওয়েবিনার, পিটিশন সাইন এবং মিডিয়া ক্যাম্পেইন অব্যাহত রেখেছে। তামাক কোম্পানিগুলোর ফ্রন্ট গ্রুপ ‘ভয়েস অব ভেপারস’ এবং বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডসটা) এ বিষয়ে খুবই সোচ্চার রয়েছে।
জানা গেছে, ফাউন্ডেশন ফর এ স্মোক-ফ্রি ওয়ার্ল্ড (এফএসএফডব্লিউ) অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ধূমপানের বিকল্প বিষয়ে গবেষণার নামে বাংলাদেশে ই-সিগারেট ও ভেপিং-পণ্যের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। এসবের মাধ্যমে তারা মূলত মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত প্রচার করে নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে নীতিনির্ধারকরা বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীটি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চূড়ান্ত মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে। তামাক কোম্পানি চাইছে, আইনটি যেন যথাযথভাবে এবং তাড়াতাড়ি পাস না হয়। গত সংশোধনীর সময়েও কোম্পানিগুলো একইভাবে বিরোধিতা করেছিল।
সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল (বিএমজে) গ্রুপের টোব্যাকো কন্ট্রোল জার্নালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দেখানো হয়েছে, কীভাবে তামাক কোম্পানি বাংলাদেশে তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা মুদ্রণ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে হস্তক্ষেপ করেছে। এ ক্ষেত্রে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) সবচেয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সঙ্গে যোগাযোগের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় রাজস্ব বিভাগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ সৃষ্টিতে সমর্থ হয়েছিল কোম্পানিটি। নিবন্ধটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন বাংলাদেশ সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী প্রক্রিয়া চলমান। তামাক কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন হস্তক্ষেপ এবং কূটকৌশল অব্যাহত রেখেছে। তবে এসবে বিভ্রান্ত না হয়ে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে খসড়া সংশোধনীটি চূড়ান্ত করতে হবে।