ঢামেক শিশু সার্জারি বিভাগের বার্ষিক নিরীক্ষা ও ইয়ারবুকের মোড়ক উন্মোচন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শিশু সার্জারি বিভাগের ‘বার্ষিক নিরীক্ষা এবং ইয়ারবুকের মোড়ক উন্মোচন’ উপলক্ষে বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৩ জুন) দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের নবনির্মিত সভাকক্ষে সেমিনারটি শুরু হয়।

সেমিনারে ঢামেক হাসপাতালের  শিশু সার্জারি বিভাগ, নিওনেটাল সার্জারি বিভাগ, শিশু সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগ এবং শিশু ইউরোলজি বিভাগের ২০১৪-২০২২ সালের সার্বিক কার্যক্রম  তুলে ধরা হয়।

 এছাড়াও তাদের সাফল্যের মধ্যে আলোচিত বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারের রয়েছে, ২০১৬ সালে মায়ের গর্ভে গুলিবিদ্ধ নবজাতক সুরাইয়া সফল অস্ত্রোপচার। ২০১৭ সালে যমজ শিশু তোফা তহুরার পৃথকীকরণ। ২০২২ সালে যমজ শিশু লামিয়া-লাবিবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথকীকরণ। বর্তমানে খাদিজা ও সুমাইয়ার পৃথকীকরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মো. আশরাফ উল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের  প্রতিমন্ত্রী  ফরহাদ হোসেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল সকলের কাছেই ভরসার জায়গা। আধুনিক একটি সরকারি শিশু হাসপাতাল গড়ার ব্যাপারে তিনি একমত পোষণ করেন। একই সাথে ঢাকা মেডিক্যালের আধুনিকায়ন এবং আরও সুযোগ বৃদ্ধির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক শিশু সার্জারি বিভাগের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, এই বিভাগের বেড সংখ্যা আরও বেশি থাকলে আরও বেশি সংখ্যক জটিল রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হতো।

সেমিনারে বক্তারা শিশু সার্জারি বিভাগের বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসকদের পদ সৃষ্টি এবং পদোন্নতিতে জটিলতা নিরসনের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে ২০১৪-২০২২ সালের সার্বিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন করা হয়। সময়ের সাথে সাথে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কাজের চাপ এবং বিশেষায়িত সেবাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা ছিল ৫০৩৩ জন, ২০২২ সালে হয়েছে ১৬৩২১ জন। জরুরি ভর্তি ২০১৪ সালে ১৩১৫ জন, ২০২২ সালে হয়েছে ২০৮৮ জন। রুটিন অপারেশন ২০১৪ সালে ছিল ৩২৮টি, ২০২২ সালে ১৪৯৯টি অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। ২০২২ সালে মোট সার্জারি সম্পন্ন হয় ৩১৬৭টি (রুটিন অপারেশন ১১৯৮টি, জরুরি অপারেশন ১৯৬৯)।

এখন পর্যন্ত এই বিভাগ থেকে ৪১ জন চিকিৎসক এমএস ডিগ্রি সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিশেষায়িত শিশু সার্জিক্যাল সেবা দিয়ে আসছে। এই বিভাগে প্রতিনিয়ত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে ১১টি গবেষণা কার্যক্রম চলমান আছে।

বলা হয়, ১৯৯৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ১০টি বেড নিয়ে শিশু সার্জারি বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বেড সংখ্যা ৮৭টি, বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগ জরুরি চিকিৎসা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা (নবজাতক, শিশু ক্যান্সার, শিশু ইউরোলজি, লেপারোস্কোপি সার্জারি এবং কলোনোস্কোপি) প্রদান করা হচ্ছে।

৮৭টি বেডের বিপরীতে প্রতিনিয়ত ১৫৫ বা এর অধিক রোগী ভর্তি থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব সিরাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল আলম চৌধুরী, পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু, ডিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল অনুষদ ডা. শাহারিয়ার নবি শাকিল, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. দেবেশ চন্দ্র তালুকদার ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আহম্মেদ হোসেন হারুন।