মাটি ও পরিবেশ রক্ষাসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্যের ব্যবহার অতিদ্রুত বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।
সোমবার (৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করবার পরেও বিপদজনক পলিথিন ব্যাগের উৎপাদনের সাথে জড়িত কারখানাগুলো এতদিনেও কেন বন্ধ করা গেলো না, তার রাজনৈতিক অর্থনীতির বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশ ধ্বংসকারী পলিথিন ও প্লাস্টিক উৎপাদনের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের সাথে আপস করবার রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ না করতে পারলে বাংলাদেশ থেকে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণের মতো বিপর্যয়কারী দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে না। একইসঙ্গে দেশের সবুজ-জলাশয়-জলাধার কিংবা পাহাড়-টিলা-বন উজাড় করে উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজের যে ধারা অব্যাহত আছে, সেটা রোধ না করতে পারলে সামগ্রিকভাবে পরিবেশ দিবসের উদ্দেশ্য ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করে আইপিডি।
সম্প্রতি সরকারি অফিসে এবং উপকূলীয় ১২টি জেলায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়— এই উদ্যোগ সারা দেশের সকল অফিস ও সকল এলাকায় বাস্তবায়নে নীতিমালা ও কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া প্লাস্টিক দূষণের ব্যাপকতার কারণে নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ছে এবং নদী-খাল-জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের সম্মুখীন। ফলে পরিবেশগত এই ক্ষতির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন অতিজরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মনে করছে আইপিডি।
প্লাস্টিক দূষণের আগ্রাসন এখন কেবল নগর এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং গ্রামীণ জনপদে, পাহাড়ি এলাকায় কিংবা উপকূলীয় দ্বীপ ও চরাঞ্চলসহ সারা বাংলাদেশেই আগ্রাসী আকারে এই দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে প্লাস্টিক দূষণ এখনই নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করে আইপিডি।