ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের প্রথম ‘ইন্টেগ্রিটি ডে’ উদযাপিত

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট সাস্টেইন্যাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ ‘ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক’ বাংলাদেশে প্রথম ‘ইন্টেগ্রিটি ডে ২০২৩’ উদযাপন করেছে। ‘সম্মিলিত কর্মের মাধ্যমে ভালো নাগরিকত্ব এবং সততা সক্রিয় করা’ প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে এই উদযাপন করা হয়। 
বুধবার (৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত এই উদযাপনে বেসরকারি খাত, সিভিল সোসাইটি, মেরিটাইম সেক্টর এবং একাডেমিয়ার শিল্প নেতারা একত্রিত হোন।

গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী ভাষণ দেন। তিনি উদাহরণ তুলে ধরে নেতৃত্বের গুরুত্ব উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্যানেল আলোচনায় বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি লিডাররা যোগদান করেন। এর মধ্যে আছেন- স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালসের মানবসম্পদ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার ফকরুল হাসান, এসকিউ গ্রুপের চিফ পিপল অ্যান্ড সাস্টেইন্যাবিলিটি অফিসার ওয়ারিসুল আবিদ, আইডিএলসি ফিন্যান্সের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার আফরিন হুদা এবং মেরিটাইম এন্টি করাপশন নেটওয়ার্কের প্রজেক্ট লিড সায়িদ আরিফুল।

অধিবেশনটি পরিচালনা করেন ইনোভিশন কনসালটিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির লিডারদের এই আলোচনায় বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জসমূহ এবং সাপ্লাই চেইন-এর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সততা প্রচারের সর্বোত্তম প্র্যাকটিসগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। প্যানেলিস্টরা সাস্টেইন্যাবল চেঞ্জ-এর জন্য সুসংজ্ঞায়িত মূল্যবোধ এবং তাদের সংগঠনের সংস্কৃতিতে এটিকে স্থাপন করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনার জন্য একাডেমিক ল্যান্ডস্কেপ থেকে লিডারদের একত্রিত করা হয় যারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের জন্য ভাল নাগরিকত্ব এবং সততা অর্জনে একাডেমিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমরান রহমান,ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম লুৎফর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন, ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ সেন্টার (আইসিই) নির্বাহী পরিচালক মো. রাশেদুর রহমান।

আলোচকরা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যে ভূমিকা পালন করছে তা শেয়ার করার পাশাপাশি একাডেমিয়া বেসরকারি খাত ও সিভিল সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কীভাবে যুবকদের মাঝে ভালো নাগরিকত্ব এবং সততা নিহিত করতে পারবে। সেশনটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের (বিওয়াইএলসি) নির্বাহী পরিচালক তাহসিনাহ আহমেদ।

এই দুই প্যানেল আলোচনার পর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে তাদের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘দায়বদ্ধতা সরকারি খাত দিয়ে শুরু হওয়া উচিত, বেসরকারি খাত নয়’। প্রতিযোগিতামূলক এই সেশনে বিষয়ের বিপক্ষে থাকা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির দল বিজয়ী হয়।

সমাপনী বক্তব্যে জাগো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান করভি রকশন্দ বলেন, সততা বজায় রাখা এবং প্রচার করার ক্ষেত্রে একটি সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও এটি কিছুটা সময় নিতে পারে, একটি সম্মিলিত পদ্ধতি সাস্টেইন্যাবল ইম্পেক্ট-এর দিকে পরিচালিত করবে।

একটি পৃথক সাক্ষাৎকারে ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাবরুর এম চৌধুরী ইন্টেগ্রিটি ডে উদযাপনের পিছনে যুক্তি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সাস্টেইন্যাবল চেঞ্জ সক্রিয় রাখতে সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বুঝতে হবে এবং একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হতে হবে। আমরা ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বাংলাদেশ সেই অতি প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম প্রদান করি।’