প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকের ওপর আরোপিত কর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যয় আনুযায়ী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর তামাক কর নীতি প্রণয়ন জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের (বাটা) একটি প্রতিনিধি দল রায়ের বাজার হতে যাত্রা শুরু করে আগারগাঁও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সংসদ ভবন, কাওরান বাজার, জাতীয় প্রেসক্লাব, শাহবাগ ও ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোড প্রদক্ষিণ করে তাদের দাবিগুলো জানায়।
বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে তারা বলেছেন, ১০ শলাকা বিশিষ্ট কমমূল্যের সিগারেটের দাম ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করা। পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ করা হোক। দেশে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর প্রচলিত অ্যাডভেলোরেম কর পদ্ধতিটি অত্যন্ত জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। ফলে এটি তামাকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর নয় এবং তামাক কোম্পানিতে কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ করে দেয়। এছাড়া তামাকজাত দ্রব্য বহু মূল্যস্তরবিশিষ্ট হওয়ায় ভোক্তারা সহজেই নিম্ন মূল্যস্তরের তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করতে পারে।
প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে সব তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করার পাশাপাশি মূল্য কমিয়ে ২টি করা হলে তামাক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও জোটের পক্ষ থেকে তামাক কর আদায় ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের দাবি জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, দেশের সর্বত্রই খুচরা শলাকা বিক্রয়ের কারণে মোড়কে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে সিগারেট বিক্রয় হচ্ছে। এভাবেই তামাক কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এই ফাঁকি রোধে, খুচরা শলাকা বিক্রয় নিষিদ্ধের পাশাপাশি মোড়কের গায়ে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যেই (এমআরপি) যেন ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয় হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করা প্রয়োজন। এছাড়া ১০ শলাকা বিশিষ্ট মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চ স্তরের সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য যথাক্রমে ৭০ টাকা, ১২০ টাকা ও ১৫০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।