সপ্তাহে একদিন ছুটিসহ অধিকার ও সুরক্ষার দাবি গৃহশ্রমিকদের

সপ্তাহে একদিন ছুটিসহ গৃহ শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ‘আন্তর্জাতিক গৃহশ্রমিক দিবস-২০২৩’ অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমাদের দাবি হচ্ছে— গৃহকর্মের স্বীকৃতি ও জিডিপিতে অন্তর্ভুক্তি, গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা-২০১৫ পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন। গৃহশ্রমিকদের শোভন কাজ সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন-১৮৯ সরকার কর্তৃক অনুসমর্থন, গৃহশ্রমিকের হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, নীতিমালা অনুযায়ী গৃহশ্রমিকদের সপ্তাহে একদিন ছুটি এবং প্রবাসী গৃহশ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, মর্যাদা ও সুরক্ষায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহযোগিতায় এবং জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন সংস্থাগুলোর বাস্তবায়নে গৃহকর্ম পেশায় নিয়োজিত ১৮ হাজার নারী ও শিশু গৃহকর্মীদের পেশাগত ও জীবন দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সিকিউরিং রাইটস অব ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘অ্যামপাওয়ারিং উইমেন থ্রু সিভিল সোসাইটি অ্যাক্টরস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাকিতায় কর্মজীবী নারী ও ডেমোক্রেসিওয়াচের আয়োজনে ‘আন্তর্জাতিক গৃহশ্রমিক দিবস-২০২৩’ উদযাপন করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিরীন আখতার বলেন, ‘গৃহ-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে অনেক দিন ধরেই, কিন্তু সঠিকভাবে এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। গৃহ-শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, সুযোগ ও সুবিধা সৃষ্টির পাশাপাশি এবং তাদের পেশাকে কাজের স্বীকৃতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

ডেমোক্রেসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ওয়াজেদ ফিরোজ বলেন, ‘গৃহ-শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে।’

কর্মজীবী নারীর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘স্মরণ করছি সেইসব ব্যক্তিদের যারা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের অগ্রযাত্রাকে প্রেরণা দিয়ে, পাশে থেকে এগিয়ে নিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে স্পেকট্রাম, তাজরীন, রানাপ্লাজা, হাশেম ফুড লিমিটেডসহ এযাবৎকালের সকল শিল্প দুর্ঘটনায় যে সকল শ্রমিক জীবন দিয়েছেন তাদের।

গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, গৃহকর্মীদের পেশাকে মর্যাদা দেওয়া।’

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ড. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, ‘গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নীতিমালা পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।‘

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কর্মসূচি পরিচালক মাহমুদা সুলতানা বলেন, দেশের ৪২ শতাংশ নারীরা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত আছেন, তারা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করছেন কিন্তু মর্যাদা পাচ্ছেন না।’

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কর্মজীবী নারীর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ফারহানা আফরিন তিথি।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডেমোক্রেসি ওয়াচের প্রোগ্রাম অফিসার নাফিসা সাদাফ।