বিশ্বের ১০০ কোটির বেশি শিশু জলবায়ু সংকটজনিত প্রভাবের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। চিলড্রেনস এনভায়রনমেন্টাল রাইটস ইনিশিয়েটিভ (সিইআরআই) জোটের সদস্য প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফ প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) ইউনিসেফেরে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, জলবায়ু সংকটের কারণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল পাচ্ছে না। মূল বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুদের জন্য শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে। ইউনিসেফের শিশুদের জলবায়ু ঝুঁকি সূচক অনুসারে, ১০০ কোটির বেশি শিশু জলবায়ু সংকটজনিত প্রভাবের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউনিসেফের শিশু অ্যাডভোকেট বার্বাডোসের জলবায়ুকর্মী ১৩ বছর বয়সী মারিয়া মার্শালের মতে, শিশুরাই ভবিষ্যৎ, কিন্তু ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে বর্তমান সময়ে যারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাদের কার্যক্রমের ওপর। শিশুদের শোনা হচ্ছে না।’
ইউএনএফসিসিসি এবং প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক জলবায়ু তহবিলগুলো (এমসিএফএস) থেকে জলবায়ু অর্থায়ন করা হয়েছে কিনা তা মূল্যায়ন করার জন্য তহবিল কমছে। ‘শিশুদের জন্য জলবায়ু অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলা’ শীর্ষক সমীক্ষায় তিনটি মানদণ্ডের একটি সেট ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো হলো– জলবায়ুজনিত সংকটের কারণে শিশুরা যে ঝুঁকিগুলোর সম্মুখীন হয় তা মোকাবিলা করা, শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবাগুলো শক্তিশালী করা এবং দূত পরিবর্তনের হিসেবে শিশুদের ক্ষমতায়ন করা।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বসু বলেন, ‘সমীক্ষায় উঠে আসা বিষয়গুলো অপ্রীতিকর। জরুরি ও কার্যকর বিনিয়োগ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চাবিকাঠি। বিশেষ করে মেয়ে শিশুরা, যারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের ঝুঁকিতে আছে তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা সত্ত্বেও বর্তমানে যে তহবিল ব্যয় করা হয় সেখানে শিশুদের প্রায় সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়, এর পরিবর্তন দরকার।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৭ বছর ধরে জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোর জন্য এমসিএফএসের মাধ্যমে প্রদত্ত সমস্ত অর্থের শুধুমাত্র একটি ছোট অংশ (২ দশমিক ৪ শতাংশ) তিনটি প্রয়োজনীয়তার সবগুলোই পূরণ করেছে, যার পরিমাণ মাত্র ১২০ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সংখ্যাটি সম্ভবত একটি অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে। তিনটি প্রয়োজনীয়তার সবগুলো পূরণে আরও কম পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন-এর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গ্লোবাল হেড কেলি টুলি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই অসমতা ও বৈষম্যের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে কম ভূমিকা রেখেছে। শিশুদের অধিকারকে প্রাধান্য দিতে হবে শিশুদের কথা যাতে শোনা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, শিশুরা পানি ও খাদ্যের অভাব, পানিবাহিত রোগ এবং শারীরিক ও মানসিক আঘাতের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনও প্রমাণ রয়েছে যে, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিশুদ্ধ খাবার পানির মতো মৌলিক পরিষেবাগুলো প্রাপ্তির সুযোগকে ব্যাহত করছে।
ইউনিসেফের জলবায়ু অ্যাডভোকেসির বিশেষ উপদেষ্টা পালোমা এসকুদেরো বলেন, ‘প্রতিটি শিশুই অন্তত একটি এবং অনেক ক্ষেত্রে একাধিক জলবায়ুজনিত বিপত্তির সম্মুখীন হয়। জলবায়ুজনিত বিপত্তির সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলোকে খাপ খাইয়ে নিতে যে বিনিয়োগ অপ্রতুল।’
প্রতিবেদনটিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের মতামত নেওয়া হয়েছে, যারা বলেছে যে, তারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।