নৌপথেও রাজধানীতে আসছে কোরবানির গরু

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় বসছে ১৯টি পশুর হাট। হাটগুলোতে পশুর জোগান দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসছে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশু। সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথেও সমানতালে রাজধানীতে ঢুকছে কোরবানির পশু।

রাজধানীর পোস্তগলা শশ্মান ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গরু ভর্তি ট্রলার এসে ভিড় করছে বুড়িগঙ্গা নদীর এই অংশে। গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রলারে করে গরু আনা হচ্ছে এই ঘাটে। এখান থেকে গন্তব্য রাজধানীর বিভিন্ন হাট। তবে এসব গরু মূলত যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা- এই তিন হাটকে টার্গেট করেই আনা হয়েছে।

পোস্তগোলা হাটের হাসিল কর্মী জুনায়েদ বলেন, ‘প্রতিবছরই পোস্তগোলা ঘাটে ট্রলারে গরু আসে। পোস্তগোলা হাটেই এসব গরু অধিকাংশ থেকে যায়। তবে যাত্রাবাড়ি ও ধোলাইখালেও অনেক গরু যায় এখান থেকে।’

একেকটি ট্রলারে ৪০ থেকে ৫০টি গরু বহন করা সম্ভব

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে যানজট, চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য ঝামেলা ও ঝক্কি এড়াতে সড়কের বিকল্প হিসেবে কোরবানির পশু আনার জন্য নৌপথকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর থেকে ট্রলারে গরু নিয়ে আসা আশিক ইসলাম বলেন, ‘রাস্তায় জ্যাম থাকে, কতক্ষণ লাগবে আসতে তার ঠিক নেই। তারপর একটু যেতেই টাকা নেয়। এতে খরচ বেড়ে যায়। তার থেকে নদীতে মোটামুটি ঝামেলা কম।'

মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গরু ফরিদপুর থেকে ট্রলারে করে রাজধানীতে আনা হয়। ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, মেহেরপুরসহ অন্যান্য জেলার খামারীরা নিজ উদ্যোগে এবং সিজনাল ব্যবসায়ীরাও এসব এলাকা থেকে গরু সংগ্রহ করে ট্রলারে করে রাজধানীতে আনেন।

নৌপথে আনা গরুর বেশিরভাগই যায় পুরান ঢাকার হাটগুলোতে

ফরিদপুরের সদরপুর এলাকা থেকে দুটি ট্রলারে গরু এনেছেন জারিফ মাতব্বর। তিনি বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি থেকে ঈদের একমাস আগে থেকে গরু সংগ্রহ করেছি। ফরিদপুর থেকে আজ গরু নিয়ে এখানে এসেছি। আসতে ছয় ঘণ্টা লাগলেও অন্য কোনও সমস্যা হয়নি।’

ব্যবসায়ী ও ট্রলার চালকরা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে দীর্ঘক্ষণ পশু নিয়ে ফেরির জন্য অপেক্ষা করা, পদ্মা সেতু দিয়ে পাড়াপাড়ে পশুবাহী বড় ট্রাক না পাওয়ার কারণে তারা সড়ক পথের বিকল্প হিসেবে নদীপথকে পছন্দ করেন। এছাড়াও ট্রলারে ৪০-৫০ টা পর্যন্তও গরু নেওয়া যায়। এছাড়াও ট্রলারে পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় পশুর জন্য নড়াচড়া ও খাবারের পরিবেশ থাকে।

ট্রলারে গরু আনার কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, ‘পদ্মাসেতুতে পিকআপ ভাড়া করতে হবে, তার খরচ অনেক। তার থেকে সদরপুর থেকে ট্রলারে গরু নিয়ে চলে এসেছি। এক ট্রলারে আমার ৩৬টা গরু এনেছি। এক পিকআপে তো এতো গরু ধরতো না।'

সড়কপথের ঝক্কি এড়াতে নৌপথে গরু আনেন ব্যবসায়ীরা

কোরবানির সময় নদী এলাকায় চাঁদাবাজি, জোড় করে বিভিন্ন হাটে গরু নামিয়ে নেওয়াসহ অন্যান্য অভিযোগ থাকলেও এবার সতর্ক ভূমিকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনি। নৌপথে নিয়মিত টহল ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ।

সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। সদরঘাট নৌথানা এলাকায় চারটি টিম সবসময় নদীতে টহল দিচ্ছে। এছাড়াও কোস্টগার্ড আছে। এবার এখনও পর্যন্ত চাঁদাবাজি বা গরু কেড়ে নেওয়া বা জোড় করে নামিয়ে নেওয়ার কোনও অভিযোগ আমাদের থানায় আসেনি।'

ছবি: নাসিরুল ইসলাম।