কক্সবাজারের জিলনজা মৌজার পাহাড় শ্রেণির জমি সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বরাদ্দ না দিয়ে বিকল্প উপযুক্ত স্থানে বরাদ্দ দেওয়ার দাবিতে নোটিশ প্রেরণ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
সোমবার (২৬ জুন) বেলা’র আইনজীবী এস. হাসানুল বান্না নোটিশটি প্রেরণ করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয় সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কক্সবাজার জেলা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ও পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন করেছে এখানকার ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড় ও টিলা। নগরীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ও পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে নগরীকে রক্ষা করতে পাহাড় ও টিলাগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে এ জেলার ১০,৪৬ হেক্টর এলাকাকে সরকার ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে সেখানে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে।
‘সরকার কর্তৃক ঘোষিত কক্সবাজার জেলাধীন প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার অন্যান্য মৌজার মধ্যে রয়েছে জিলনজা মৌজা। এ মৌজার বিভিন্ন দাগে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবেদন সৃষ্টিকারী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী পাহাড়/টিলা। জিলনজা মৌজার বিএস ১৭০৭০ নং দাগে ৪৯.৯৭ একর পাহাড় শ্রেণির জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, কক্সবাজারের পক্ষে রেকর্ড রয়েছে। ২০১০ সালের ৫ মে জে:প্র:/কক্স/রাজস্ব/২-১৬৬/২০০৭-১০০৭ স্বারকবাহী এক পত্রের মাধ্যমে দেখা যায়, জিলনজা মৌজার বিএস ১৭০৭০ নং দাগের ৫ একর পাহাড় শ্রেণির ভূমি সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বরাদ্দ প্রদানের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য ভূমি বরাদ্দ প্রদান জাতীয় অপরিহার্য স্বার্থ না হওয়া সত্ত্বেও পাহাড় শ্রেণির ভূমিতে আবাসনের প্রস্তাব বাতিল না করে বরং তা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশে প্রচলিত আইনের পরিপন্থি।
‘স্বল্প পরিমাণ পাহাড় রক্ষার কোনও বিকল্প নেই এ উপলব্ধি থেকে দেশের বিবেক খ্যাত সাংবাদিকরা, পরিবেশবাদীরা, দেশের আইন ও আদালত পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেশের সাংবাদিকরাই সাহসের সঙ্গে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান সংবাদের মাধ্যমে জাতির কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। এমতাবস্থায় পাহাড় কেটে সাংবাদিকদের আবাসন তৈরি হলে তা জাতির কাছে খারাপ দৃষ্টান্তের সৃষ্টি করবে ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের নৈতিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।’
‘সাংবাদিকদের আবাসনের দাবি সর্বাবস্থায় যৌক্তিক তবে, তা পাহাড় কেটে নয়। বিকল্প কোনও অকৃষি খাস জমিতে সাংবাদিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা কোনও আপত্তি থাকবে না মর্মে ধরে নেওয়া যেতে পারে।’
‘দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জাতীয় অপরিহার্য স্বার্থ ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতীত পাহাড় কর্তন/মোচন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অধিকন্তু কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে অবস্থিত সকল পাহাড় কর্তন বন্ধে দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলার (মামলা নং ৭৬১৬/২০১১) ১৯ মার্চ, ২০১২ তারিখের রায়ে আদালত উল্লেখিত জেলাগুলোতে অবস্থিত সকল পাহাড় কর্তন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালত সকল পাহাড়ের তালিকা (দাগ, খতিয়ানসহ) এবং পাহাড়গুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রস্তুত ও তা আদালতে দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন (সংযুক্ত)। একইসাথে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ বিদ্যমান পাহাড়গুলোকে আরও ক্ষতি, ধ্বংস ও কর্তন হতে রক্ষার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পাহাড় কাটা বিষয়ে আদালতের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা প্রতিটি পাহাড়ে প্রদর্শন করা এবং ইতোমধ্যে কর্তন করা হয়েছে এমন পাহাড়গুলোতে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ এবং দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।’
আইনি বিধি-নিষেধ ও আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকায় কক্সবাজার জেলায় নতুন করে পাহাড় কেটে কোনও উন্নয়নের সুযোগ নেই বিধায় সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিকল্প কোনও স্থানে ভূমি বরাদ্দ প্রদানের কোনও বিকল্প নেই বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।