শাহবাগে শিপ্রা বোসকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএসএমএমইউতে দেহ দান

গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক শিপ্রা বোস দূরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত শনিবার (১ জুলাই) সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হাসপাতালে মারা যান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ‘সাইনোভিয়াল সারকোমা’ নামের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সকালে শাহবাগে প্রজন্ম চত্বরে শিপ্রা বোসের মরদেহ আনা হয়। এ সময় তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গণজাগরণ মঞ্চের সহযোদ্ধারা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণজাগরণ মঞ্চের সহযোদ্ধা ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, শিপ্রা বোস মানুষ, দেশ ও সমাজ নিয়ে ভাবতেন। তিনি কি চান, সেটা তিনি মাথায় রাখতেন। মতের যত অমিল থাকুক, কেউ যদি ভালো কোনও উদ্যোগ নিত, যেটা মানুষের কল্যাণে, নারীদের কল্যাণে, সমাজের কল্যাণে; তিনি সব সময় প্রশংসা করতেন।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর আগে শিপ্রা বোস আমাকে ও তার বন্ধুদের বলে গিয়েছেন তার মরদেহ যেন মেডিক্যাল কলেজে দান করি। তাই তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) হস্তান্তর করা হবে।

পরে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের কাছে তার দেহ হস্তান্তর করেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মরণোত্তর দেহদান একটি মহৎ কর্ম। শিপ্রা বোস দেহদানের মাধ্যমে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। শিপ্রা বোসের মতো মানবকল্যাণে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে সহযোগিতাকারীদের কৃতজ্ঞচিত্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা স্মরণ করবেন।

উল্লেখ্য, শিপ্রা বোস নব্বইয়ের ছাত্র এবং গণ-অভুত্থানের সক্রিয়কর্মী। তিনি জাতিসংঘে সিনিয়র জেন্ডার উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৩ সালে শাহবাগের গণজাগরণের নেপথ্যের অন্যতম সংগঠক ছিলেন শিপ্রা।

শিপ্রা বোসের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে। সেখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। তখন থেকেই ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে পথচলা শুরু করেন।