ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ও সিটি করপোরেশন ব্যর্থ হয়েছে: ড্যাব

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ও সিটি করপোরেশন ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। তারা বলেন, এখন দুর্বলতা ঢাকতে তারা (সিটি করপোরেশন) বাড়ির মালিকদের উল্টো জরিমানা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ড্যাব আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করনীয় শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু নতুন কোনও রোগ নয়। এটা প্রতিকারের জন্য সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের যে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তাতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সারা বছর ধরে যে ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না বলেই ডেঙ্গু পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটছে।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, যথাযথ পরিকল্পনা, পূর্বপ্রস্তুতি ও কার্যকর বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণেই সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। বড় সিটি করপোরেশনগুলোর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিক্ষিপ্তভাবে অকার্যকর কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে থেকে জানা যায়, গত ৬ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে মাত্র এক হাজার ২৯০টি জায়গায় মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এডিস মশা যে শুধু মানুষের ঘরের ফুলের টবে কিংবা ছাদে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই হয়, তা নয়। বিভিন্ন পাবলিক প্লেস, বিশেষত সরকারি-বেসরকারি নির্মাণাধীন ভবন ও স্থাপনায় পড়ে থাকা বোতল, প্যাকেট, ডাবের খোসা, কনটেইনার, ড্রাম, ব্যারেল, পরিত্যক্ত টায়ার, ইটের গর্ত ইত্যাদিতে জমে থাকা পানিতে জন্মাতে পারে। এ কারণেই ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপাল ঢাকায় এসে বলে গিয়েছিলেন, নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো এডিস মশার অন্যতম বড় উৎস, এখানকার মশা উৎপাদনক্ষেত্র বিনাশ করা সম্ভব হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।’

সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি কোনও পরিকল্পনা ও সমন্বিত প্রচেষ্টা কর্তৃপক্ষের ছিল না। যেটুকু উদ্যোগ দেখা গেছে, তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অপ্রতুল। সরকারি হিসাবেই ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। এর পরও ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া জেলা-উপজেলা শহর ও গ্রামে মশকনিধন কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ছে না। সিটি করপোরেশন এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চললেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অনেক ঘাটতি রয়েছে। তবে পৌর এলাকার পরিস্থিতি অনেকটাই নাজুক। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণের কোনও কার্যক্রমই নেই। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব ইউনিয়ন পরিষদই মশা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র, ওষুধ ও জনবলশূন্য।’

ড্যাব’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম।