ডেঙ্গুতে দুই সদস্যের মৃত্যুর পর বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় প্রতিটি ইউনিটে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের ব্যবহৃত স্থাপনাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও সদস্যদের ডেঙ্গু হলে করণীয় সম্পর্কেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১২ জুলাই) পুলিশ সদর দফতরের এআইজি নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বর প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে দুই জন পুলিশ সদস্য ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অনেক পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রয়েছেন। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধকল্পে প্রয়োজনীয় সকলের সচেতনতা সৃষ্টি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত জরুরি।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মনজুর হোসেন জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। পুলিশের সকল সদস্যকে সচেতন করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশের স্থাপনাগুলো যেমন- পুলিশ লাইন্স, থানা, ফাঁড়ি, ফোর্স ব্যারাক, ফোর্সের মেস, এমটি শেড, রিজার্ভ অফিসসহ অন্যান্য সকল স্থাপনায় নিয়মিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান পরিচালনা করা, পুলিশের সকল স্থাপনায় পরিত্যক্ত ড্রাম, পাত্র, ভাঙ্গা হাড়ি-পাতিল, টিনের কৌটা ও বোতল জাতীয় জিনিসপত্র যেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটাতে পারে এমন জিনিসপত্র দ্রুত অপসারণপূর্বক ওই স্থাপনাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। পানি জমতে পারে এমন স্থান বা বস্তু- যেমন ভবনের ছাদ, ড্রেন, পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি বা গামলা, ডাব বা নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, ফুলের টব ও আশেপাশে পড়ে থাকা পাত্রে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া। বর্ষাকালে বৃষ্টির পর পরই পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে জমাকৃত পানি দ্রুততার সঙ্গে অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশের সকল স্থাপনায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে মশা ধ্বংসকারী স্প্রে করতে হবে। প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার সহায়তা গ্রহণ করতে হবে। ঘুম কিংবা বিশ্রামের ক্ষেত্রে দিনে ও রাতে মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কল্যাণ সভা, ভিডিও কনফারেন্স বা রোল কলের মাধ্যমে সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদেরকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। জ্বর হলে (অন্যান্য লক্ষ্মণ যেমন- মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, জয়েন্ট ব্যথা, বমি করা, ডায়রিয়া না থাকলেও) অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করা এবং ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর হলে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকতে হবে এবং স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি বেশি বেশি তরল খাবার খেতে হবে। পুলিশের প্রতিটি ইউনিটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন করতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দুই সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির আরও অর্ধ-শতাধিক সদস্য ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত দুই পুলিশ সদস্য হলেন- হাজারীবাগ থানার কনস্টেবল রাসেল শিকদার ও গেন্ডারিয়া থানার নারী কনস্টেবল আয়েশা আক্তার।
কারাগারেও সতর্কতা জারি
চলমান ডেঙ্গু জ্বরের অবস্থা প্রকট হওয়ায় সম্প্রতি দেশের ৬৮টি কারাগারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে— বর্তমানে সারা দেশে ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারাগারগুলোতে যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক। কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বন্দিদের নিরাপদ রাখতে নির্দেশনাগুলো দরবার বা রোল কলের সময় প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, নির্দেশনায় কারা স্থাপনাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সকল ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি কারাগারে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে অ্যান্টি-ডেঙ্গু টিম গঠন করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।