সম্রাট চিকিৎসার জন্য ভারতে আছেন: হাইকোর্টকে আইনজীবী

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুলাই ভারতের কলকাতায় গেছেন। ২৫ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে, উচ্চ আদালতকে এ তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবী। পরে আদালত এ মামলার শুনানি আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেন।

বিদেশ যাওয়ার জন্য বিচারিক আদালতের দেওয়া অনুমতি বাতিল চেয়ে দুদকের আবেদনের শুনানিতে রবিবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব তথ্য জানানো হয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। অপরদিকে সম্রাটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

এর আগে গত ১ জুন এ মামলায় ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমাম। একইসঙ্গে আদালত সম্রাটের পাসপোর্ট তার জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।

তবে ওই আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানায় দুদক।

প্রসঙ্গত, একই মামলায় ২০২২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান শুনানি শেষে সম্রাটকে জামিন দেন।

জামিনের ক্ষেত্রে সম্রাটকে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়। শর্তগুলো হচ্ছে— তার পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে, আদালতের অনুমতি না নিয়ে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। এরপর জামিনে কারামুক্ত হয়ে গত বছরের ২৬ আগস্ট দুপুরে হাসপাতাল ছাড়েন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। 

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের নামে মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্রাট বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। 

মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সম্রাটকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।