হাসপাতালের সামনে ফেলে যাওয়া হয় লাশ: জেপি নেতার মৃত্যুর কারণ জানালো পুলিশ  

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার কলেজ গেট এলাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে যাওয়া হয়েছিল জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতা সালাম বাহাদুর ওরফে আব্দুস সালাম মিয়ার লাশ। এই ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতারের পর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এক নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে তার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন ও হয়রানির জেরে মারপিটের শিকার হয়ে তিনি নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।  

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) ভোর রাতে রাজধানী ও মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় সঙ্গে জড়িত দুই নারীকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। দুই নারী সম্পর্কে মা-মেয়ে। তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৯ জুলাই)  দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে থেকে গত ১৫ জুলাই রাত ১১টার দিকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম সালাম বাহাদুর ওরফে আব্দুস সালাম মিয়া (৬০)। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার। এই ঘটনায় মৃতের ছোট ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতা সালাম বাহাদুর ওরফে আব্দুস সালাম মিয়া

মামলার তদন্তে নেমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের সব ক্যামেরা অকার্যকর দেখতে পায় পুলিশ। পরে পরিবার ও মোবাইল ট্র্যাকিং করে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের বরাত দিয়ে ডিসি আজিমুল হক বলেন, পাঁচ-ছয় বছর আগে সালামের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় হয় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি সুপার শপে। চাকরি দেওয়ার কথা বলে পরিচয় থেকে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন সালাম। তিনি তাদের বিভিন্ন মুহূর্ত গোপনে ক্যামেরায় ধারণ করে রাখেন। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। সালামের এমন কাজে দিশেহারা হয়ে মেয়েটি ঢাকা ছেড়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিজ বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু সালামের ব্ল্যাকমেইল চলতেই থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই বিকালে সালাম মেয়েটির বাড়িতে যান। তিনি যাওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজনকে বিষয়টি জানায় মেয়ের পরিবার। সালাম মেয়েটির বাড়িতে যাওয়ার পরেই শুরু হয় তাকে নির্যাতন। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় সালামের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বারবার নির্যাতন করা হয়।

পরে সালাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে মৃত্যু হয়। সালামের মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে অন্যরা গাড়ি থেকে নেমে যায়। এরপর গ্রেফতারকৃত মেয়ের মা সালামের লাশ গাড়িতে করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে যান। লাশ উদ্ধার শেষে সালামের মরদেহে বিভিন্ন ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত মা-মেয়েকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

পাঁচ দিনের রিমান্ড

সালাম বাহাদুর ওরফে আব্দুস সালাম মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার মা ও মেয়ের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১৯ জুলাই) তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আকতারুজ্জামান। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহর আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন আসামিদের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না।

শেরেবাংলা নগর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার সাব-ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সালাম বাহাদুরের বাসা ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানিতে। তিনি জেপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক।