বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, আইন পেশায় জুনিয়রদের শেখানোর ক্ষেত্রে যে শিক্ষার অভাব তার জন্য আপনাদের (সিনিয়র আইনজীবীদের) কিছু না কিছু আমি দায়ী করবো।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে ‘ল’জ অন লিগ্যাল প্রাকটিশনারস্ ইন বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আমি এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলবো, এখানে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান (অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন) আছেন। বার কাউন্সিলের অধীনে হাইকোর্ট পারমিশনের ভাইভা নিচ্ছি (চলমান)। মানের (নতুন আইনজীবীরা) দিক থেকে হতাশাজনক। এতো কম মানের অ্যাডভোকেট হলে তো মুশকিল।
উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখানে আমার সামনে অনেকে বসে আছেন যারা অনেকদিন ধরেই প্রাকটিস (সুপ্রিম কোর্টে) করছেন। আপনাদের সঙ্গে অনেকেই আর্টিকেলশিপ (জুনিয়র আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিস) করেন। আপনাদের সঙ্গে কোর্টে ঘোরাঘুরি (প্রাকটিস) করেন। আমরা যখন তাদের সিনিয়রের নাম জানতে চাই তখন তারা আপনাদের (সিনিয়রদের) নাম বলে। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করি (ভাইভা বোর্ডে), তুমি কোন কোর্টে গিয়েছ, কী শিখেছ? তখন তারা জজ সাহেবের নাম বলে না, কোর্টের নাম বলে, জজ সাহেবের নাম বলতে পারে না। সুতরাং এই যে শিক্ষার অভাব এজন্য আপনাদের (সিনিয়র আইনজীবীদের) কিছু না কিছু আমি দায়ী করবো। আপনাদের কাছে যারা আসবে তাদের শেখাবেন। নয়তো আপনাদের যেমন বদনাম হবে, তেমনি কম জানা মানুষ যদি সুপ্রিম কোর্টে এসে ওকালতি করেন, তাহলে কী হবে আমাদের ভবিষ্যতের অবস্থা? আপনাদের সঙ্গে যারা কাজ করবে তারা দীর্ঘদিন এই কোর্ট দিয়ে হাঁটবে। এই হাঁটার সময় তারা সারাজীবনই কি স্লোগান দেবে নাকি শুধু ভাঙচুর করবে? নাকি লেখাপড়া শিখবে? নাকি কোর্টকে সহযোগিতা করবে? এর দায়-দায়িত্ব আপনাদের (সিনিয়র আইনজীবী) নিতে হবে।
আইন পেশা সম্পর্কে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার জন্য জজ হয়ে গিয়েছিলাম। এতো পড়তে হয় আইনজীবীদের! ভাবলাম জজ হয়ে যাই। জজ হলাম। সেখানে গিয়ে দেখি আরও বিপদ। জজ হিসেবে আপনি আপনার মার্ক ধরে রাখতে পড়তেই হবে। বই পড়ার একটি সুবিধাও আছে। সাহায্য পাওয়া যায়। আইনজীবী যদি ভালো হন তাহলে সাহায্য আরও পাওয়া যায়।
এসময় মোড়ক উন্মোচন করা বইটির বিষয়ে ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।