নির্বাচনকে সামনে রেখে গার্মেন্টস খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজব ছড়িয়ে গার্মেন্টস খাতকে অস্থিতিশীল করতে চায় একটি মহল। চিহ্নিত এই মহলের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছে গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শিল্প পুলিশ। তাদের তৎপরতা ঠেকাতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ডের প্রতি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়েও সজাগ রয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে মতবিনিময় করে সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখায় শিল্প পুলিশ অনেকটাই শ্রমিকদের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি ছোট-বড় গার্মেন্টসের মালিক-শ্রমিকদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে শিল্প পুলিশ। শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ এবং খুলনা অঞ্চলে গার্মেন্টস খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে  অগ্রিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৭ সাল থেকে কাজ করে আসছে শিল্প পুলিশ। 

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গার্মেন্টস খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য বেশ কয়েকটি চক্র এরই মধ্যে বিভিন্নভাবে অপতৎপরতা শুরু করেছে। শ্রমিকদের বিভিন্ন ধরনের উসকানি এবং প্রলোভন দিয়ে এই চক্রগুলো আগে থেকেই শ্রমিকদের নিজেদের আয়ত্বে আনার চেষ্টা করছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শ্রমিকসহ শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ফলে তাদের পক্ষে বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা  সম্ভব হবে না বলে দাবি করেছেন শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা।

শিল্প পুলিশের সূত্র বলছে, শিল্প এলাকার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই শ্রমিক সংগঠনগুলোর পেছনে কারা রয়েছে এবং কারও যোগসাজশ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া মালিকদের মধ্যে কেউ যেন কোনও ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি  সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারেও বিভিন্ন সমন্বয় সভায় অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিক সংগঠনগুলোর  অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে পরিবেশ যেন অশান্ত করতে না পারে, সে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এমবি নিড ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ হাতেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যেন গার্মেন্টস খাতকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে না পারে, সে কারণে মালিক-শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠন এবং শিল্প পুলিশের সমন্বয়ে বিভিন্ন জায়গায় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। অস্থিতিশীল হলে গার্মেন্টস বন্ধ থাকবে। শ্রমিকরা কাজ করতে পারবে না। এগুলো তুলে ধরে সবার সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। কারও ইন্ধনে কেউ যেন পা না দেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হচ্ছে।’

শিল্প পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মাহাবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিল্প ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ বিনিয়োগবান্ধব ও স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করছে শিল্প পুলিশের প্রতিটি সদস্য। আগে কোনও একটি বা একাধিক কারখানায় কোনও কারণে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা কিংবা জেলা পুলিশকে ডাকা হতো। আর এখন প্রিভেন্টিভ তথ্যের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসছে শিল্প পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক অসন্তোষ, কোনও স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন বা ষড়যন্ত্র, গুজব, শ্রমিকদের বেতনভাতা, ছুটি সংক্রান্ত সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে শিল্প পুলিশ।’