বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সিভিল এভিয়েশনের একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিমান বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।
পরে রিট আবেদনকারী আইনজীবী জানান, ডেইলি স্টার পত্রিকায় গত ১ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বিমানের ১৪ জন পাইলট নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে। যাদের মধ্যে অনেকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এর মধ্যে একজন মানবিক (আর্টস) ব্যাকগ্রাউন্ডের। সায়েন্সে না পড়ে কীভাবে পাইলট হলেন? আরেকজনের কাগজে জালজালিয়াতি দেখা যায়। এগুলো দেখার পরে আমি বিস্মিত হয়েছি। যেহেতু আমি বিমান বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত করি। সেক্ষেত্রে আমি সংক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠাই। তাতে কোনও ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে রিট করি।
ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ উড্ডয়নের জন্য চুক্তি ভিত্তিক পাইলটদের একটি ব্যাচ নিয়োগ দিয়েছিল। নিয়োগের সময় বিমান দাবি করেছিল যে তাদের পাইলট সংকট থাকায় অবিলম্বে এই নিয়োগ দিতে হবে। এর এক বছর পরে নিয়োগকৃত ১৪ জন পাইলটের মধ্যে মাত্র ৫ জন উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করেছে। বাকিরা আটকে আছেন জাল সনদ, অযোগ্যতা ও লাইসেন্সিং পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে।
‘বিমান তাদেরকে দিয়েছে মোটা অংকের বেতন, সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণের জন্য খরচ করেছে বিপুল অর্থ; যার সবই গেছে জলে। অপারেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭ উড়তে ফার্স্ট অফিসারদের কমপক্ষে ৩০০ ঘণ্টার ফ্লাইং অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তদের কারোই সেই অভিজ্ঞতা নেই।’