এবার বৃষ্টিতেও কমছে না বায়ুদূষণ। এর কারণ হিসেবে ফিটনেসবিহীন গাড়িকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত বৃষ্টিতে বায়ুদূষণ কমে আসে। কিন্তু এবার টানা বৃষ্টিতেও দেশের বায়ুর স্বাস্থ্য ভালো হচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদফতর থেকে বায়ুর মান পরীক্ষা করে বলা হচ্ছে, দেশের সাত জায়গার বায়ুকে বলা হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর। বায়ুদূষণের উৎসগুলোর এখন পরিবর্তন ঘটাই এর কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশ অধিদফতর জানায়, তারা প্রতিদিন সারা দেশের ১৩টি স্থানে বায়ুর মান পরীক্ষা করে। যেসব জায়গায় শিল্প-কারখানা রয়েছে, সেখানেই বায়ুর মান পরীক্ষায় বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, বায়ুর মানমাত্রা শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে সেটিকে ভালো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে হলে সেটি মধ্যম মানের বায়ু, ১০১ থেকে ১৫০ হলে বায়ুর মানে সাবধানতা বা সতর্কীকরণ করা হয়। বায়ুর মান ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে হলে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে বায়ু খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দেশের যে সাত জেলায় বায়ুর মানকে অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হচ্ছে, এরমধ্যে সবার ওপরে রয়েছে ময়মনসিংহের নাম।
একিউআই অনুযায়ী, ময়মনসিংহের বায়ুর মান ১৭৫। এরপর রয়েছে সাভারের নাম, যেখানে একিউআই অনুযায়ী বায়ুর মান ১৬৭। এরপরই রয়েছে গাজীপুরের নাম। এ জেলায় একিউআই অনুযায়ী বায়ুর মান ১৬১। গাজীপুরের পরপরই ঢাকার একিউআই অনুযায়ী বায়ুর মান ১৫৮। খুব কাছাকাছি বায়ুর মান ১৫৬ নিয়ে কুমিল্লা, ১৫৪ নিয়ে নরসিংদী, ১৫১ নিয়ে রংপুর রয়েছে পরের অবস্থানে।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে ১৫০, রাজশাহীতে ১০৫, খুলনা ১১৭, চট্টগ্রামে ৮২, বরিশালে ৭৩ নিয়ে বায়ুমান ইনডেক্সে রয়েছে নগরীগুলো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, বুধবার দিনভর বৃষ্টির পরও কমেনি বায়ুদূষণ। সন্ধ্যায় ঢাকা ছিল দূষণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে, মাত্রা ছিল ১৫২, যা রাত ১০টায় উঠে আসে প্রথম অবস্থানে। এ সময় মাত্রা ছিল ১৬৬।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আগে বায়ুদূষণের উৎসগুলোর মধ্যে ছিল ইটভাটা, রাস্তার নির্মাণকাজ বড় উৎস। এর বাইরে যানবাহনের অংশটি কি ছিল। ইটভাটাগুলো বৃষ্টির সময় বন্ধ রাখা হতো। নির্মাণকাজও বন্ধ থাকতো। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় দূষণের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে যানবাহনের দূষণ। এই দূষণের কারণে এখন বৃষ্টির দিনগুলোতে দূষণ কমছে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ১৫ লাখ ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ গণপরিবহন। এসব গাড়ির দূষণই ঢাকার কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ফ্লাইওভারে ওঠার সময় এসব গাড়ির ইঞ্জিন দুর্বল বলে উঠতে গিয়েই দূষিত কালো ধোঁয়া ছাড়ছে। প্রতি মুহূর্তে এই ধোঁয়া ছাড়া হচ্ছে।
ইদানীং রাস্তায় কালো ধোঁয়াযুক্ত গাড়ি অহরহই চোখে পড়ে। এসব কারণে বৃষ্টি হলেও কমছে না বায়ুদূষণ। প্রতিকার করতে হলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বাদ দেওয়াও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।