যুবদলের সাধারণ সম্পাদককে অবৈধভাবে কারাগারে আটক রাখার অভিযোগ

হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে অবৈধভাবে জেলখানায় আটক রাখার অভিযোগ তুলে আদালতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আইনজীবীরা।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তালায় এ সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্নার আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক নিহার হোসেন ফারুক বলেন, ‘গত ৮ মার্চ বিনা পরোয়ানায় আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর শাজাহানপুর থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। ওই মামলায় জামিন পেলেও একের পর এক ৫টি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে কোনও মামলার এজাহারেই আবদুল মোনায়েম মুন্নার নাম ছিল না। এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমরা  হাইকোর্টে রিট করলে মুন্নাকে এভাবে মামলায় গ্রেফতার দেখানো কেন অবৈধ হবে না মর্মে রুল ইস্যু করে আদালত। এছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জেলগেট থেকে এবং এজাহারে নাম না থাকলে কোনও মামলায় গ্রেফতার না দেখাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট বিভাগ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ উচ্চ আদালতের এই আদেশ অগ্রাহ্য করে পুনরায় যাত্রাবাড়ী থানার আরেক মামলায় নাম না থাকা সত্ত্বেও মুন্নাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর ফের রিট করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ পুনরায় একই রুল প্রদান করেন যে, এভাবে মামলায় গ্রেফতার দেখানো কেন অবৈধ হবে না এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জেলগেট হতে বা কোনও মামলার এজাহারে নাম না থাকলে গ্রেফতার না দেখাতে নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু গত ৩০ আগস্ট সব মামলার জামিননামা দাখিল করলেও যুবদলের সেক্রেটারিকে না ছেড়ে ফের এজাহারে নাম না থাকা রামপুরা থানার আরেক মামলায় গ্রেফতার দেখাতে আবেদন করা হয়েছে। এভাবে হাইকোর্টের আদেশ না মেনে সব মামলায় জামিনে থাকলেও জেলখানায় অবৈধভাবে আটকে রাখা মানবাধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন। আমরা আবদুল মোনায়েম মুন্নার মুক্তি চাই।’

যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানভীর হাসান সোহেল বলেন, ‘যুবদল সেক্রেটারিকে গায়েবি মামলায় একের পর এক ফাঁসানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে একদিনের একই সময়ে রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন ৩টি স্থানের মামলার আসামি করা হয়েছে। একজন মানুষ কীভাবে একই সময়ে তিন জায়গায় থাকতে পারে। তিনি কি সুপারম্যান। বর্তমানে সব মামলায় তিনি জামিনে আছেন। আমরা তার মুক্তি চাই।’

এছাড়া যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, সদস্য অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান জুয়েল, সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট মাহমুদুল করিম সজল, অ্যাডভোকেট মাহফুজার রহমান ইলিয়াসসহ প্রায় ৩০-৩৫ জন আইনজীবী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।