লুটপাট ও অর্থপাচার বন্ধে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ৪ প্রস্তাব

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করা অর্থ-সম্পদ ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানোসহ অর্থপাচার বন্ধে ৪টি প্রস্তাব তুলে ধরেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে কত টাকা পাচার হয় বা বিগত ১৫ বছরে মোট কত টাকা পাচার হয়েছে তার কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য বা হিসাব কারও কাছে নেই। সরকার চায় না এ হিসাব থাকুক। তারা এসব পাচারের হিসাব এবং তথ্য-উপাত্ত সচেতনভাবে নষ্ট করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকার ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট নামক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশের অবৈধ অর্থ পাচার এবং আত্মসাৎ নিয়ে কাজ করে। তারা ২০১০, ২০১৫ এবং ২০১৮ সালে আমাদের দেশের সম্ভাব্য পাচার নিয়ে তিনটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। তাদের হিসাবে ২০০৬ থেকে ২০১৫— এই ১০ বছরে প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বলে তারা অনুমান করেছিল। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৩ নাগাদ প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার কথা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সমাজ এবং শাসনব্যবস্থা ফেরত আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা এসব লুটেরা পাচারকারী মাফিয়াদের সিন্ডিকেট। মূলত, বাংলাদেশকে কোনও সরকার পরিচালনা করছে না; বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে মাফিয়াদের স্বার্থে, মাফিয়াদের মনোনীত সিন্ডিকেট দ্বারা। এরাই আইন, আদালত, প্রশাসন, সংসদ, বিচারবিভাগ, ব্যাংক, বীমা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা, মিডিয়ার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে গত আড়াইশ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের নিজের আয়ের উপর ভিত্তি করে ঘুরে দাঁড়ানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থপাচার রোধ ও পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৪টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো-

লুটপাট ও পাচার বন্ধের সকল আইন-কানুন সংস্কার করতে হবে; পাচার ও লুটপাটবিরোধী আন্তর্জাতিক যে সমস্ত আইন, কনভেনশন, প্রতিষ্ঠান রয়েছে, বাংলাদেশকে অবিলম্বে সেই সমস্ত আইন এবং কনভেনশন অনুমোদন করতে হবে; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারাসহ অপরাপর সব দেশকে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা সম্পদ অনুসন্ধান, চিহ্নিত এবং বাজেয়াপ্ত করার জন্য দেশের জনগণের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাচ্ছি; এবং গত ৫২ বছরে বাংলাদেশ থেকে যত অর্থপাচার হয়েছে তার একটি শ্বেতপত্র সরকারের পক্ষ থেকে দিতে হবে। পাশাপাশি এসব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাড. হাসনাত কাইয়ুম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রহীনতার মূল কারণ লুটপাট ও অর্থপাচার। এগুলোই দেশে মাফিয়াতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্রের মূল অনুপ্রেরণা বা ভিত্তি। আমরা এসব সম্পদ বিদেশে পাচার বন্ধের পক্ষে। যেসব আইন-কানুনের সুবিধা নিয়ে এসব অর্থপাচার হয়, সেগুলো বন্ধের পক্ষে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে আইন আছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনভেনশন আছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে। বাংলাদেশের সরকার চায় না এসব আইন-কানুন এখানে প্রয়োগ হোক। তাই আমরা দেশের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে পাচার করা অর্থ জব্দ করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাই।

এ সময় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া, মিডিয়া ও প্রচার সমন্বয়ক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন ও সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন উপস্থিত ছিলেন।