ডেঙ্গুর মৃত্যুতে মানুষের আহাজারি মনে হয় কেউ শুনতে পাচ্ছে না, এমন মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেছেন, সমন্বিত একটা ব্যবস্থা নেন। মানুষের আর্তনাদটা একটু শুনেন। মানুষের জীবন রক্ষার জন্য এগিয়ে আসুন।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজে দুই বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন জানিয়ে পীর ফজলু বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৬০০-এর ওপরে। সারা দেশে মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় সরকারের কাজ। স্থানীয় সরকার পুরো দায়িত্ব নিচ্ছে না। তারা বলছে, চিকিৎসার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।’ তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই ভাইবোনের মৃত্যুর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেদিন এক পরিবারের দুইটা শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। দুইটা মাসুম বাচ্চা, ভাইবোন মারা গেলো। এই আহাজারি, এই কান্না আমার মনে হচ্ছে— কেউ শুনতে পাচ্ছেন না। এটি ভয়াবহ।’
পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।’ তিনি এই কাজে কীটতত্ত্ববিদদের যুক্ত করার দাবি জানান।
চিরুনি অভিযান প্রয়োজন
বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, ২৩৫ জন সরকারি কর্মকর্তার ইউএসএ-তে বাড়ি পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রের তো চিরুনি অভিযান প্রয়োজন— সরকারের, সরকারি দলের, সরকারের ভেতরের, আমলাতন্ত্রের, সব জায়গার। ২৩৫ জন কীভাবে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠালো? এখান থেকে তো চিকিৎসা ও শিক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই টাকা পাঠাতে পারবেন না। ২৩৫ বাড়ি কীভাবে কেনা হলো? কোন চ্যানেলে টাকা পাঠানো হলো? একটা অলপার্টি পার্লামেন্টারি টাস্কফোর্স করা দরকার, যারা এ দুর্নীতিগুলো দেখবে। কোন চ্যানেলে টাকা গিয়েছে সেটা বের করবে এবং টাকা ফেরত নিয়ে আসতে হবে। চাকরি করলে বাড়ি বিক্রি করে টাকা ফেরত নিয়ে আসতে হবে।’
বিল পাস
এর আগে বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন বিল পাসের জন্য সংসদে তোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশি ও বিদেশি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোকে এই আইনের অধীনে অ্যাক্রিডিটেশন দেওয়া হবে। অ্যাক্রিডিটেশন সনদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।