দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষায় একটি ফোরাম গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে রিজিওনাল ক্লাইমেট সামিট-২০২৩ এ ‘ইউএন লিগ্যালি বাইন্ডিং ইন্সট্রুমেন্ট অন ট্রান্সন্যাশনাল করপারেশনস অ্যান্ড বিজনেস এন্টারপ্রাইজস উইথ হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। একশনএইড বাংলাদেশ এ বৈঠকের আয়োজন করে।
অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও পরিবেশ অধিদফতর সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন– বাংলাদেশ জলবায়ু সংসদের চেয়ারম্যান তানভীর শাকিল জয়, অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক বাংলাদেশ সংসদীয় ককাসের চেয়ারপার্সন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং নেপালের জলবায়ু সংসদ সদস্য সোবিতা গৌতমসহ ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্যরা।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া লিগ্যালি বাইন্ডিং ইন্সট্রুমেন্ট প্রাসঙ্গিকতা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের স্বীকৃতি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি ২০১৪ সালে ট্রান্সন্যাশনাল করপোরেশন এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্পর্কিত ওপেন অ্যান্ড ইন্টার-গভর্নমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করেন, যার লক্ষ্য এই সংস্থাগুলির মানবাধিকারের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক উপকরণ তৈরি করা।
তিনি ব্যবসায় মানবাধিকারের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবসা ও মানবাধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের গাইডিং প্রিন্সিপালসের (২০১১) ভূমিকা তুলে ধরেন। লিগ্যালি বাইন্ডিং ইন্সট্রুমেন্টের চতুর্থ সংশোধিত খসড়া ২৪টি আর্টিকেল নিয়ে গঠিত। তিনি অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার রক্ষায় একটি সংসদীয় ককাস গঠন, অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি অবস্থানপত্র প্রণয়ন, আন্তঃদেশীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা স্থাপনে বাধ্য করা, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউতে দেশভিত্তিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসনের জন্য মূলত উন্নত দেশগুলো দায়ী। এর জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ কখনোই যথেষ্ট নয়।’ কপ-২৭ এ অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তিনি লিগ্যালি বাইন্ডিং ইন্সট্রুমেন্ট কাঠামোর মধ্যে জলবায়ু ন্যায়বিচার নীতি অন্তর্ভুক্তির পক্ষে মত দেন।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী স্বেচ্ছায় অভিবাসন ও এ প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উচিত সম্মিলিতভাবে তাদের মজুরির মান বাড়ানোর চেষ্টা করা এবং সম্মিলিতভাবে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা।
নেপালের সংসদ সদস্য সোবিতা গৌতম জলবায়ু অভিবাসন মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ‘ফোর্স ম্যালএডাপটেশন’ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি মানব নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এই বহুমুখী সমস্যা সমাধানে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অংশগ্রহণকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে এই অঞ্চলের সংসদীয় সদস্যদের নেতৃত্বে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের জন্য একটি দক্ষিণ এশীয় ফোরাম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হন। এই ফোরাম এলবিআই প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির কণ্ঠকে প্রসারিত করবে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি সমাধান করে তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা জোরদার করবে।