দুই ভাইয়ের চোর চক্র

‘আলিবাবা’ চাবি দিয়ে তালা খুলে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি!

রাজধানীর ভাটারা ও গুলশান থানার দুটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল ও একটি চোরাই সিএনজি অটোরিকশাসহ দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-গুলশান বিভাগ। ডিবি জানায়, আপন এ দুই ভাই গত ৮ বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. রিপন মাতাব্বর ওরফে রফিকুল ইসলাম ওরফে রিপন হাওলাদার ও তার ভাই মো. বাদল মাতাব্বর।

গ্রেফতার দুই ভাই

রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও মহানগর গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডিএমপির ভাটারা ও গুলশান থানার দুটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাদল মাতাব্বর ও রিপন মাতাব্বর নামে আপন দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য নিয়ে গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ৬টি চোরাই মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের অপরাধের কৌশল সম্পর্কে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, রিপন মাতাব্বর ও বাদল মাতাব্বরের সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছে। কেউ মোটরসাইকেল পার্ক করে রেখে গেলে বাদল মাতাব্বর মোটরসাইকেল মালিকের গতিবিধি লক্ষ্য রাখে। আর তার বড় ভাই রিপন মাতাব্বরের কাছে থাকা ‘আলিবাবা’ নামে খ্যাত ‘মাস্টার কী’ দিয়ে কয়েক সেকেন্ডে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

চুরি হওয়া ১১টি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে হারুন অর রশীদ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা গত ৮ বছরে রাজধানীর ভাটারা, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল, টিএসসি, নগর ভবন, গুলিস্তান, ধানমন্ডি লেক, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি করেছে। পুলিশের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে রিপন মাতাব্বরের নামে তিনটি মাদকসহ ২০টি চুরি মামলা ও তার ভাই বাদলের নামে তিনটি চুরি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, চুরি করা এসব মোটরসাইকেল কম টাকায় কিনে যারা ব্যবহার করে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া যেখানে সিসিটিভি বা দারোয়ান আছে সেসব স্থানে মোটরসাইকেল রাখার অনুরোধ করেন এই গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা।