বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে এক আইনজীবীর সহকারীর মৃত্যুতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সই করা এক বিবৃতিতে তারা এই উদ্বেগের কথা জানায়। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদসূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উক্ত বস্তাবন্দি লাশের বিষয়ে সম্পৃক্ততা জানতে পেরে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে থেকে জেলা ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনজীবীর সহকারী হাবিবুর রহমান হাবিব (৩৬)কে আটক করে। একই দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইনজীবীর সহকারী হাবিবুর রহমান মারা যান। মৃতের স্বজনদের দাবি, ডিবি পুলিশের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে হাবিবুরের মৃত্যু হয়েছে। ডিবি হেফাজতে হাবিবের মৃত্যুর ঘটনায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
ঘটনার পরস্পরা জানাতে বিবৃতিতে বলা হয়, ২ আগস্ট বগুড়ার শাজাহানপুর থানার জোড়া গ্রামের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা খুকি বেওয়া নিখোঁজ হন। ৪ আগস্ট গ্রামের একটি পুকুর থেকে তার বস্তাবন্দি পা ছিন্ন লাশ উদ্ধার করা হয়। ৩ অক্টোবর দুপুরে একই গ্রামের মনোয়ারা বেওয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে খুকি বেওয়ার অপর পা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মনোয়ারাকে ডিবি পুলিশ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে হাবিবুরের নাম উঠে আসে। হাবিবুর ২০১৩ সালে খুকি বেওয়ার সৎ ছেলে বিপুল হত্যা মামলার আসামি। উক্ত মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী ছিলেন খুকি বেওয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে থেকে জেলা ডিবি পুলিশ হাবিবুরকে আটক করে।
বগুড়া ডিবি পুলিশ জানায়, আটকের পর হাবিবুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসাপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত পৌনে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।