মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সচেতন। এ বিষয়ে কমিশন নিবিড়ভাবে কাজ করছে। কেননা, ভোটাধিকারও একটা মানবাধিকার।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যাতে না ঘটে এবং সব ধর্মের মানুষ যাতে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সে বিষয়ে সোচ্চার থাকবে কমিশন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক একটি আলোচনা সভারও আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

স্মারকলিপিতে নির্বাচনকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘন মনিটর করার জন্য কমিশন থেকে একটি মনিটরিং সেল গঠন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু নির্বাচনী এলাকাগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া, নির্বাচন পূর্বাপর সময়ে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে কমিশন থেকে তদন্ত করা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়াসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ সময় ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজাসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।