৯ দিনে ১০৭ পুলিশ সদস্য আহত, নিহত ১

রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ ও হরতাল-অবরোধ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত ৯ দিনে ১০৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন একজন। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সমাবেশ থেকে রবিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত এই পুলিশ সদস্যরা হতাহত হন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানায়, বিএনপির মহাসমাবেশে দায়িত্ব পালন করার সময় পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি), সহকারী কমিশনার (এসি), পরিদর্শক ও উপ-পরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও কনেস্টবল পর্যন্ত পুলিশের ১০৭ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় আমিরুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। এরমধ্যে ৮৭জন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য। তিন জন নারাণগঞ্জ ও ঢাকা জেলা পুলিশের সদস্য।

গত ২৮ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে কাকরাইল মোড়ে পুলিশর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কাকরাইল, বিজয়নগর ও নয়া পল্টনসহ আশেপাশের এলাকা। সেখানে পুলিশের এক সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সংঘর্ষের সময় যুবদলের এক সদস্য মারা যান। পুলিশসহ আহত হয়েছেন অনেকেই।

২৮ অক্টোবর পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ (ছবি: ফোকাস বাংলা)

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এডিসি চার জন, এসি একজন, ইন্সপেক্টর সাত জন, এসআই ১২ জন, এএসআই ১৮ জন, নায়েক ২ জন ও কনেস্টবল ৬৩ জনসহ রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পাঁচ জন ওয়ার্ড বয় এবং সাখাওয়াত হোসেন নামে এক গাড়ির চালক আহত হন। আহতদের মধ্যে ওই দিনই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে যান চার জন ও বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন আট জন।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ২০ জন। এর মধ্যে নায়েক আব্দুর রাজ্জাকের অবস্থা গুরুতর। তিনি আইসিইউতে ভর্তি আছেন। বাকি সদস্যরা চিকিৎসা নিয়ে দায়িত্বে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ৮৭ জন ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ১৭জন এবং ইউএস বাংলা হাসপাতালে দুই জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, গত ২৮ অক্টোবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার শিকার পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় কর্তৃপক্ষ বহন করেছে। এছাড়া আগামীতেও যেসব পুলিশ সদস্য আহত হবেন তাদেরও চিকিৎসা ব্যয় পুলিশ বহন করবে। এসব টাকা ডিএমপির কল্যাণ তহবিল থেকে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি আইজিপির তহবিল থেকেও দেওয়া হয়। তারপরেও প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ ফান্ড থেকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হয়।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব পুলিশ সদস্য আহত হবেন, তাদের দেশে ও দেশের বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ডিএমপির ২০ সদস্য চিকিৎসাধীন আছেন।