শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি পুনর্বিবেচনার দাবি বিভিন্ন পোশাক শ্রমিক সংগঠনের

সম্প্রতি পোশাক শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করেছে সরকার। ঘোষিত এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন পোশাক শ্রমিক সংগঠন। একইসঙ্গে তারা পোশাক শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিও জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন দাবিতে পৃথকভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে মজুরি বৃদ্ধিতে গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলন, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি, গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচকরী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ), গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ওএসকে অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন।

তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো— শ্রমিক আন্দোলনে নিহত আঞ্জুয়ারা, রাসেল ও ইমরান হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত, শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা বাতিল, ৫ ও ৬ নং গ্রেড ও শিক্ষানবিশ পদ বিলুপ্ত করে মজুরি কাঠামো নির্ধারণ, শ্রমিক আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করা, নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়া।

মজুরি বৃদ্ধিতে গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, সরকার ১২ হাজার ৫০০ টাকার যে মজুরি ঘোষণা করেছে, সেটি আমরা ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিকের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করেছি। আজ বাজারে পেঁয়াজের দাম পেয়ারার চেয়েও বেশি। আজকে আলু, চালসহ প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে,  শ্রমিকদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে। আমরা সরকারকে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।

মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে তিন জন শ্রমিক নিহত হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এসব হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।’

গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচকরী ঐক্য পরিষদের (জি-স্কপ) সমাবেশে বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা রাজনৈতিক অস্থিরতার রঙ লাগিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির আন্দোলন শক্তি প্রয়োগ করে দমন করার সুযোগ নিতে পরিকল্পিতভাবে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল। এটা খুবই দুঃখজনক যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মালিকদের সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে গার্মেন্টস মালিকদের ভাষায় শ্রমিকদের উপর দোষ চাপালেন।

‘শ্রমিকদের উপর গুলি চালানোর মতো বর্বর আচরণের’ তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়েছে তারা শত্রু পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছেন। সরকার কি এই দেশ শুধু মালিকদের ইজারা দিয়েছে? রাষ্ট্রীয় বাহিনী শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে কীভাবে?

শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং নিহত প্রত্যেক শ্রমিক পরিবারকে আজীবন আয়ের মানদন্ডে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে দমন-পীড়নের পথ পরিহার করে শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য মজুরি পুণঃনির্ধারণ করেন। 

এ সময় তারা একই দাবিতে আগামী ১৪ নভেম্বর সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন।

এসময় ভিন্ন ভিন্ন সমাবেশে উক্ত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে প্রতিটি সংগঠনই বিক্ষোভ মিছিল করে।