পদোন্নতির কথা বলে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত ব্যক্তি কারাগারে

পদোন্নতির কথা বলে সহকর্মীর ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় লিয়াকত আলী সরকার নামে এক চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (১২ নভেম্বর) মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সাব-ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার রাজবংশী আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমেদের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শাহজাহানপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার সাব-ইন্সপেক্টর শাহ আলম এ তথ্য জানান।

৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শনিবার (১১ নভেম্বর)  দায়ের করা মামলার অভিযোগে তছলিম হোসেন বলেন, তার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কনস্টেবল পদে ঢাকায় কর্মরত আছেন। সিআইডি ডিটিএসআইতে এটিএসআই পদোন্নতি ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণকালে স্ত্রীকে প্রায়ই মোটরসাইকেল করে নামিয়ে দিতেন তছলিম। স্ত্রীকে নামিয়ে দিতে গেলে লিয়াকত আলী সরকারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। লিয়াকত আলী সরকার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন শাখায় ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানান। তছলিমের স্ত্রী সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, সিআইডিতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছেন।’

তখন বিবাদী জানান তিনি তছলিমের স্ত্রীকে চেনেন এবং কঙ্গো শান্তিরক্ষা মিশনে তার স্ত্রীর সঙ্গে একসাথে কাজ করেছেন। বিবাদী তার স্ত্রীর পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে পারবেন বলেও জানান। আরও জানান, তিনি কত মানুষকে র‍্যাংক পাইয়ে দিয়েছেন, বাদীর স্ত্রীকেও পাইয়ে দিতে পারবেন। বাদি তার স্ত্রীর সম্মানের কথা চিন্তা করে বিবাদীর কথা বিশ্বাস করে বিস্তারিত জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

একপর্যায়ে বিবাদী তাকে জানান, সবার কাছে থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। বাদী তার পরিচিত এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে মিশন গমন করেছেন বলে বাদির কাছ থেকে এতো টাকা নেবেন না। তাকে ৫ লাখ টাকা দিতে বলেন। বাদী তার কথা বিশ্বাস করেন। স্ত্রীকে বিষয়টি বললে তিনি, তাকে মানা করেন এবং এসবের প্রয়োজন নেই বলে জানান। তারপরও বাদী তার স্ত্রীর কথা অমান্য করে বিবাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত ১৮ জুলাই দুপুর ২টায় বিদাদীকে নিজ বাসায় নিয়ে আসেন। ৫ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রমাণ রাখার জন্য ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করে টাকা দেন। চুক্তিপত্রে লেখা থাকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে পদোন্নতি না হলে টাকা ফেরত দেবে। কিন্তু বিবাদী টাকা গ্রহণের পর আর কোনও যোগাযোগ করেন না এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন বাদী বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। লিয়াকত আলী সরকারের বিষয়ে অধিকতর তথ্য নিয়ে বাদী জানতে পারেন, তিনি চাকরিচ্যুত পুলিশ।

এ অভিযোগে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন তছলিম হোসেন।