কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিতের দাবি

দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখসহ এ খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) অনলাইনে আয়োজিত ‘হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব দাবি জানানো হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালাটির আয়োজন করে। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন সিলেট বিভাগে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়ার ২৯ জন সাংবাদিক।

প্রজ্ঞা জানিয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত বিপুল জনগোষ্ঠীকে এই রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে সম্প্রতি কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধের তালিকায় উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশব্যাপী উচ্চ রক্তচাপজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসব কারণে দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে ওষুধের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং এ খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।  

কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রতি চার জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে বিনামূল্যে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পাওয়া এ ক্ষেত্রে কার্যকরী এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।

সিলেট জেলায় শুরু হওয়া কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দেওয়ার কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নার থেকে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এক মাসের ওষুধ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীদের দুই থেকে তিন মাসের ওষুধ একবারে দেওয়ার জন্য প্রেসক্রিপশন করা হলে এবং কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ওষুধের প্রাপ্র্যতা নিশ্চিত করা গেলে স্বল্প ব্যয়ে অসংখ্য জীবন বাঁচানোসহ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রামের ম্যানেজার ডা. শামীম জুবায়ের এবং প্রজ্ঞার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচির সমন্বয়ক সাদিয়া গালিবা প্রভা। কর্মশালায় আলোচক হিসেবে ছিলেন জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।