মুক্তির জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময়

তথ্য গোপন করায় টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অধন্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পাশাপাশি তথ্য গোপন করায় মুক্তির দুই আইনজীবী এম এ মুনতাকিম ও মো. জাকারিয়া হাবিবকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৬ নভেম্বর) বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান সিদ্দিকী ও মো. মজিবুর রহমান মুজিব।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে গত ২০ নভেম্বর দেওয়া জামিন বাতিল করে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তিনি বলেন, পত্রিকায় সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিনের বিষয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠায় কোর্ট সুয়োমুটো (স্বপ্রণোদিত) বিষয়টি পুনরায় কজ লিস্টে আদেশের জন্য আনেন এবং এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্টের এই একই বেঞ্চ তাকে জামিন দিয়েছিলেন। জামিনের পর ২২ নভেম্বর তিনি কারামুক্তি লাভ করেন। এরপরই তার তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এটি আদালতের নজরে আসলে আদালত তার জামিনটি বাতিল করে দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পরে গোয়েন্দা পুলিশ রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই জনকে ২০১৪ সালের আগস্ট গ্রেফতার করে। ওই দুই আসামির জবানবন্দিতে এ হত্যায় তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা এবং তার অন্য তিন ভাই পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। ছয় বছর আত্মগোপনে থেকে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সেদিন আদালত মুক্তিকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।