বাংলা ট্রিবিউন-ট্যুরিজম বোর্ডের সেমিনার

রেলে পণ্য পরিবহন: কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে খাবারের দাম কমার আশা

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় তৈরি খাবারের দাম বেড়ে যায়। এতে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে পণ্য পরিবহনে সংকট। তবে রেলযোগাযোগ চালু হওয়ায় সেই সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরফলে পর্যটননগরী কক্সবাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের দামও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ও হোটেল কল্লোলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হাসান। তিনি বলেন, ‘এখন রেল যোগাযোগ সহজ হয়েছে। আশা করছি, আগামীতে উত্তরবঙ্গ থেকে যখন সবজি কক্সবাজারে আসবে, তখন হয়তো রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম কমে যাবে।’

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজারের শৈবাল হোটেলে আয়োজিত ‘কক্সবাজার: আশা প্রত্যাশার পর্যটন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। 

দেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইমরান হাসান আরও বলেন, ‘পর্যটন খাতে একটি বড় বাধা হচ্ছে ট্যাক্স বা ভ্যাট। প্রতিবছর ভ্যাট দিতে দিতে আমরা হয়রান। কক্সবাজারে ১২টি দফতর রয়েছে। তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের জান বেরিয়ে যায়। এখানে কে শোনে কার কথা— অবস্থা।’

বক্তব্য দিচ্ছেন ইমরান হাসান

এছাড়াও হোটেল ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণেও কক্সবাজারে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা আসেন। তাদের নানা অনুরোধও রক্ষা করতে হয় আমাদের। এই রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, সেখানে কীভাবে পর্যটন ব্যবসা বাড়বে?’

রেস্তোরাঁকে শিল্প ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু এই শিল্প টিকে থাকবে কীভাবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘বাজারে নিত্যপণ্যে অস্থিরতা, সেইসঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতেরও দাম বেশি। সেই হিসাবে আমরা ব্যবসায়ীরা কোনও সুযোগ সুবিধাই পাই না।’

স্বাধীনতার ৫০ বছরে পর্যটনে কোনও পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে ইমরান হাসান বলেন, ‘পর্যটন শিল্পকে উন্নত করতে দক্ষ কোনও লোক নেই। নেই কোনও প্রশিক্ষণ। পর্যটন শ্রমিক থেকে শুরু করে মালিকরা সবাই অদক্ষ। অথচ বিশ্বেও নানা দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়— পর্যটন নিয়ে অনেক কিছু হচ্ছে।’

কক্সবাজার পর্যটন শিল্প নিয়ে যড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের খাদ্যে ভেজাল আছে— এমন কথা বলে মানুষের মনে একধরনের বিদেশি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের পরিকল্পনার অভাব কিংবা অব্যবস্থাপনা থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের খাবারে ভেজাল নেই।’ এভাবে ভেজাল খাবারের তথ্য গণমাধ্যমে প্রচার করে একটা শ্রেণি দেশীয় বাজার নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সেমিনারে বক্তাদের একাংশ

বাংলা ট্রিবিউনের বিশেষ প্রতিনিধি উদিসা ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কক্সবাজার জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার বিচ বাইক মালিক সমবায় সমিতি সভাপতি আনোয়ার ইসলাম হিরু ও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল, কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের এবং ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির পাশা। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল হাসান।

কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে বাংলা ট্রিবিউন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের দুই দিনের আয়োজনে প্রথম দিন সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ‘সৈকত থাকুক পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পালন করা হয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এদিন লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকত থেকে প্লাস্টিকসহ বর্জ্য সরানোর কাজে অংশ নেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।

দুই দিনের এই আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতা করেছে বিকাশ। কর্মসূচির এয়ারলাইন পার্টনার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নলেজ পার্টনার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বেভারেজ পার্টনার কাজী অ্যান্ড কাজী টি এবং হসপিটালিটি পার্টনার হোটেল কল্লোল। স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনায় ছিল স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠন ইয়াসিদ।