বিভিন্ন মামলায় দণ্ড পাওয়া মায়ের শিশু সন্তানের সুস্থ-স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান প্রণয়ন করার জন্য চাইল্ডস রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে মায়ের সঙ্গে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর ফাঁসির সেলে অবস্থানের বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়ের সঙ্গে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে ফাঁসির সেলে অবস্থান বিষয়ে তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর শিশুটির জন্য পর্যাপ্ত খাবার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিতে নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মায়েদের সাথে কনডেম সেলে বসবাসকারী শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে একটি প্রবিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। চাইল্ডস রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ শিশু অধিকার সুরক্ষায় এ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত মায়ের শিশুদের সুস্থ-স্বাভাবিক ও পরিপূর্ণ শারীরিক-মানসিক বিকাশে সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান প্রণয়ন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
চাইল্ডস রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ ১০টি শিশু অধিকারভিত্তিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত। যারা ২০১৩ সাল থেকে শিশু অধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কাজ করছে। এ সংবাদ বিবৃতিটি কোয়ালিশনের সচিবালয় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) থেকে প্রদান করা হচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৮টি কারাগারে ৩০৪ জন শিশু তাদের মায়ের সঙ্গে কারাগারে অবস্থান করছে। হবিগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এক মামলায় মায়ের মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ায় তার সঙ্গেই ফাঁসির সেলে বাস করছে তার ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান। ফাঁসির সেলের আয়তন প্রায় ১০ ফুট বাই ১০ ফুট, সেলগুলোতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং সরাসরি পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। দিনে দেড় ঘণ্টার জন্য সেলের তালা খুলে দেওয়া হয়। সারারাত জ্বলে উচ্চ আলোসম্পন্ন বৈদ্যুতিক বাতি। একজন সশ্রম কারাবন্দি যে হারে খাবার পান, ফাঁসির সেলে বন্দি মায়েদেরও একই নিয়মে খাবার দেওয়া হয়ে থাকে। অন্যদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত আরেকটি সংবাদে দেখা যায়, ঋণের নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবার কারণে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পুলিশ এক মা ও তার শিশুকে একত্রেই কারাগারে পাঠিয়েছে।
কারাগার কোনোভাবেই একটি শিশুর জন্য আদর্শ স্থান হতে পারে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে দণ্ডপ্রাপ্ত মায়েদের সন্তানদের অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় না। উপরন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় এই শিশুদেরকেও তাদের মায়েদের সাথে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। তারা একটি স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থা কোনভাবেই কাম্য নয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দেশের সকল শিশুর সুরক্ষা প্রদানে রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোয়ালিশন মনে করে, বিদ্যমান আইনি কাঠামো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সন্তানদের অধিকার সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। কোয়ালিশন তাই এই বিশেষ পরিস্থিতির শিকার শিশুদের ‘সর্বোত্তম স্বার্থ’ বিবেচনায় নিয়ে তাদের মানবাধিকার রক্ষা ও শারীরিক-মানসিক বিকাশ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় আইন, প্রবিধান বা নীতিমালা প্রণয়নে দ্রুততার সাথে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছে। একইসাথে কারাগারে শিশুদের বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি, দণ্ডপ্রাপ্ত মা এবং তাদের সন্তানদের বয়স ও পুষ্টি চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিমিত খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছে।