শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রায় শুনতে আদালত হাজির হয়েছেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা'র আদালত এই রায় ঘোষণা করবেন।
এদিন দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আদালত চত্বরে হাজির হন। এই মামলায় অন্যান্য আসামিরাও হাজির হয়েছেন।
গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এ তারিখ ঠিক করেন। ওইদিন মামলার অপর তিন আসামি গ্রামীণ টেলিকমের এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আমার ক্লায়েন্টরা (ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার জন) খালাস পাবেন।’
তবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, তারা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আশা করছি আসামিরা দণ্ডিত হবেন।’
গত ১১ অক্টোবর মামলার বাদী এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এরপর গত ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় সাক্ষী, গত ২৬ অক্টোবর তৃতীয় সাক্ষী এবং সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর চতুর্থ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
গত ৯ নভেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। অপর আসামিরাও তাদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। এরপর গত ১৭ নভেম্বর থেকে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়।
জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চার জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।
মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।