২০২৩ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গপোসাগরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপূর্ণভাবে নৌকা দিয়ে পাড়ি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। জেনেভায় ইউএনএইচসিআর-এর দফতরে সংস্থাটির মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ এক ব্রিফিংয়ে এই উদ্বেগের কথা জানান।
মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকালে ইউএনএইচসিআর জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলসীমায় গত বছর প্রায় ৫৬৯ জন রোহিঙ্গা মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রায় সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র যাত্রায় অংশ নিয়েছেন যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় এখন পর্যন্ত ৭৩০ জন নিখোঁজ বা মৃত, যা ২০১৪ সালের পর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
২০২৩ সালে তার আগের বছরের তুলনায় ২০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা মৃত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
সমুদ্র যাত্রায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতাসহ ভ্রমণের সময় নির্যাতন এবং শোষণের ভয়ঙ্কর বিবরণ দিয়েছেন বলে জানায় সংস্থাটি।
২০২৩ সালে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় প্রতি আট রোহিঙ্গার মধ্যে একজন মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে এবং এটি আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরকে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক জলপ্রবাহের মধ্যে একটি করে তুলেছে বলে জানায় ইউএনএইচসিআর।
সংস্থাটি জানায়, এই যাত্রার চেষ্টাকারীদের বেশিরভাগই ছিল শিশু ও নারী, যা প্রায় ৬৬ শতাংশ। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে এবং কিছু পরিমাণে মিয়ানমার থেকে চলে যাচ্ছে।
ইউএনএইচসিআর আঞ্চলিক উপকূলীয় কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যৎ ট্র্যাজেডি প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জীবন বাঁচানো এবং সমুদ্রে দুর্দশাগ্রস্তদের উদ্ধার করা একটি মানবিক, বাধ্যতামূলক এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের অধীনে একটি কর্তব্য।