জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) স্বামীকে আটকে রেখে নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একইসঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আসকের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলেছেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের অপরাধ ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে যাদের রুখে দাঁড়ানোর কথা, প্রতিবাদ করার কথা, সেই যুবশক্তি বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে এবং নিজেরাই ধর্ষক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এটা আমাদের নতুন করে শঙ্কার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আসক এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একজন নারীর সঙ্গে এ ধরণের ঘটনা আমাদের সব চিন্তা-চেতনাকে তাড়িত করে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে এবং এ ধরনের ঘটনায় অচেনা দুর্বৃত্ত নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে, তখন আমাদের অবাক হতে হয়। অভিযোগটি জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে আসক ।
এর আগে, শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলো– বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও বহিরাগত যুবক মামুন (৪৫)। মোস্তাফিজ মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী অভিযুক্তরা ওই নারীর স্বামীকে মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তাকে হল সংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন।