‘হাওরের সম্পদের সঠিক ব্যবহার হলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে’

বাংলাদেশের হাওর ও জলাভূমিগুলো অপার সম্ভাবনার আধার। হাওর ও জলাভূমিগুলো যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে এবং এখানকার সম্পদকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যাবে, অর্থনৈতিকভাবে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে, পর্যটন শিল্পের বিকাশ হবে।

রবিবার (৯ জুন) পানি ভবনে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর ও ‘আমরা নারী’ এর যৌথ উদ্যোগে ‘১০০ বছরে হাওর ও জলাভূমি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথাগুলো বলেন। মেরিন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক (এমজেএন) সাংবাদিকদের নিয়ে এই কর্মশালার সহ-আয়োজক ছিল।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতরের মো. আখতারুজ্জামান বলেন, দেশের ৭১ শতাংশ জিডিপি আসতে পারে মিঠা পানির মাছ রফতানি করে। ধানের চেয়ে মাছ চাষে তিনগুণ বেশি লাভ। মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিলে ১ কোটি মাছ পালনে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করলে তা ২০০০ হাজার কোটি টাকা বিক্রি করা সম্ভব।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রসঙ্গ টেনে মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি বাড়লে যশোর, নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চল ডুবে যাবে। হাওর ও জলাভূমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।  এগুলোর উন্নয়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মেরিন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি এহসানুল হক জসীম বলেন, সরকারের অনেক প্রকল্পের কারণে হাওর নষ্ট হচ্ছে। হাওর অঞ্চলের মানুষজনের একটা বড় অংশ শিক্ষার সুযোগ সুবিধা, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত। ইদানিং মারাত্মক আকারে বন্যা দেখা দিচ্ছে। বজ্রপাতে মারা যায় অনেক মানুষ। কিন্তু এসবের খবর মিডিয়ায় কম আসে।

‘আমরা নারী’ এর ফাউন্ডার এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এর পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম তানভীর হাসান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমদ সেভ আওয়ার সি এর মহাসচিব গাজী মোহাম্মদ আনোয়ারুল, মেরিন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি রাশেদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত শাকিল প্রমুখ।