পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে বরাবরের মতো এবারও রাজধানী ছেড়েছে লাখ লাখ মানুষ। টানা পাঁচ দিন ঈদের ছুটি শেষে আজ বুধবার (১৯ জুন) খুলেছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে অফিস-আদালত খুললেও এখনও ঢাকা ফেরেননি অনেকে। ফলে রাজধানীতে যেমন মানুষের চাপ নেই, তেমনই নেই যানবাহনের চাপও। এদিকে বুধবার দুপুরে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীতে বিরাজ করছে স্বস্তির পরিবেশ।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়নি কোনও যানজট। গণপরিবহনে ওঠার জন্য নেই কোনও তাড়াহুড়ো। সব মিলিয়ে ঈদের তৃতীয় দিন বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ধানমন্ডির মিরপুর রোড, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, পল্টন, গুলিস্তান, কমলাপুরসহ বিভিন্ন সড়ক আজও ছিল ফাঁকা ও কোলাহলমুক্ত।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে ঢাকার সড়কগুলোতে যানবাহন ও যাত্রী উপস্থিতি একেবারেই কম। রাস্তায় কিছু বাস চললেও যাত্রী খুব কম। অপরদিকে কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করতে দেখা যায়।
ফাঁকা শহরে বন্ধুদের নিয়ে রমনা পার্কে ঘুরতে এসেছেন তানভীর হাসান। তিনি বলেন, আমরা বাড্ডা থেকে কয়েক বন্ধু মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়েছি। ঈদের বন্ধে রাস্তায় গাড়ি কম থাকে, ঘুরতে ভালো লাগে। প্রতি ঈদে আমরা বন্ধুরা মিলে এভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হই। গাড়ির সংখ্যা কম হওয়ায় দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারছি। একটু আগে বৃষ্টিও নামলো। সব মিলিয়ে সুন্দর একটি পরিবেশ উপভোগ করছি।
এদিকে, ফাঁকা শহরে অনেকে রিকশায় চেপে ঘুরতে বের হয়েছেন। রাজধানীর আজিমপুর এলাকা থেকে রিকশায় ঘুরতে বের হওয়া শাহীন মিয়া বলেন, ঈদে সবচেয়ে ভালো লাগে ঢাকার ফাঁকা রাস্তা। আমরা যারা সারা বছর ঢাকায় থাকি, তারা ঢাকার বাইরে না গেলে খুব একটা ফাঁকা রাস্তা চোখে পড়ে না। শুধু ঈদ এলে ঢাকার রাস্তায় স্বস্তি পাওয়া যায়। কোলাহলমুক্ত রাস্তায় পরিবার নিয়ে বের হয়েছি। বেশ ভালো লাগছে।
ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নব কুমার বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মঙ্গলবারের (১৮ জুন) মতো আজও রাস্তা ফাঁকা। লোকজন এখনও সেভাবে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেনি। আজ রাত থেকে যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছি।